সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শুভ মহালয়া ২০২৬’। এবারই প্রথম চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
গত শনিবার বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহালয়ার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আয়োজক ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা এ আয়োজনকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ও জাতিগত বৈচিত্র্য এ অঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্য। দীর্ঘ ২১ বছরের মাঠ প্রশাসনের কর্মজীবনে এত বড় পরিসরে মহালয়া প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা তাঁর এবারই প্রথম।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, যা জাতীয় গর্বের বিষয়।
উৎসবের জাঁকজমকের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল যাতায়াত এবং পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইতিমধ্যে সমন্বয় সভা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া পূজা আয়োজনের জন্য সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নটু চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেন আয়োজক কমিটির নেতারা। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।