সিলেটের জকিগঞ্জে ঘন ঘন চুরি-ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনপদে। এবার উপজেলার ৭ নম্বর বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তর কুল গ্রামে গভীর রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ি দুটিতে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ডাকাতদের বাধা দিতে গিয়ে শামীম আহমেদ নামে এক বাড়ির মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ডাকাত দলটি প্রথমে জামাল মাস্টারের বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে চার ভরির বেশি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। এরপর পাশের বাড়িতে থাকা ‘জকিগঞ্জ রাজমহল’-এর পরিচালক শামীম আহমেদের বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতেরা।
এ সময় বাধা দিতে গেলে শামীম আহমেদের ওপর হামলা চালায় ডাকাত দলের সদস্যরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর বাড়ি থেকে কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর রাতে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। শনিবার সকালে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ডাকাতদের শনাক্ত করতে স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। স্থানীয় চেয়ারম্যান টিপু চৌধুরী বলেন, ইদানীং এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। গত ৫০ বছরে এ ধরনের ডাকাতি ও নির্যাতনের ঘটনা আমরা দেখিনি।
স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মালিক বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব আহমদ আহত শামীম আহমদকে নিজের বন্ধু উল্লেখ করে জানান, তিনি তাঁকে আইসিইউতে দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সোহেল। এমন ডাকাতি ও নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
একই রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় উত্তর কুল গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ডাকাত দলের সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।