ঋণ করে লবণ চাষ, দুশ্চিন্তা বিদেশি আমদানি—দক্ষিণ চট্টগ্রামের চাষিদের কপালে ভাঁজ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদে শুরু হচ্ছে নতুন লবণ মৌসুমের প্রস্তুতি। বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার মাঠে লবণ উৎপাদনে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন

2026-10-11T17:34:37+00:00
2026-10-11T17:34:37+00:00
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
ঋণ করে লবণ চাষ, দুশ্চিন্তা বিদেশি আমদানি—দক্ষিণ চট্টগ্রামের চাষিদের কপালে ভাঁজ
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম 
দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদে শুরু হচ্ছে নতুন লবণ মৌসুমের প্রস্তুতি।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদে শুরু হচ্ছে নতুন লবণ মৌসুমের প্রস্তুতি। বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার মাঠে লবণ উৎপাদনে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রায় আট হাজার চাষি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে শুরু হবে উৎপাদন কার্যক্রম। চলতি মৌসুমে তিন উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে নতুন মৌসুম ঘিরে চাষিদের চোখেমুখে যেমন আশার আলো, তেমনি রয়েছে উৎপাদন খরচ, বৈরী আবহাওয়া, ঋণের বোঝা ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা। বিশেষ করে বিদেশি লবণ আমদানি এবং বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চাষিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া ও খানখানাবাদের একাংশসহ আনোয়ারা ও পটিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে লবণ উৎপাদন হয়ে আসছে। শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকার কৃষকেরা মাঠ প্রস্তুত, পলিথিন সংগ্রহ ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই উৎপাদন দেশের লবণের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদন কার্যক্রমে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) চাষিদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে।

গন্ডামারা ইউনিয়নের লবণচাষি ফজল আহমদ বলেন, গত বছর আমরা বেশি জমিতে লবণ চাষ করেছিলাম। কিন্তু উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। এখন যদি নামমাত্র মূল্যে বিদেশি লবণ আমদানি করা হয়, তাহলে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাব না।

বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার চাষি আবুল কাসেম বলেন, ঋণ করে এবং চড়া সুদে টাকা নিয়ে মাঠে নামতে হয়। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও পরে বৈরী আবহাওয়া ও ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কা তাদের তাড়া করে বেড়ায়।

পটিয়ার লবণচাষি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের উৎপাদিত লবণের মান ভালো হলেও সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হই। সরকারের পক্ষ থেকে বাজারে তদারকি বাড়ানো হলে চাষিরা উপকৃত হবেন।

আনোয়ারার বারশত এলাকার চাষি জয়নাল আবেদীন জানান, লবণ উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু সময়মতো সার, পলিথিন ও আর্থিক সহায়তা না পেলে চাষিদের সংকট আরও বাড়ে।

লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, “কাগজপত্রে কৃত্রিম ঘাটতি দেখানো হলেও বাস্তবে মাঠে পর্যাপ্ত লবণ রয়েছে। চাষিদের গুদামেও লবণ মজুত আছে। অথচ অবৈধ পথে এবং নামে-বেনামে বিদেশি লবণ ঢুকছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের লবণচাষিরা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবেন।”

তার দাবি, দেশীয় উৎপাদন ও মজুতের প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় নিয়ে আমদানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সার্বিক বিষয়ে বিসিক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম এম আলমগীর আলকাদেরী বলেন, সাধারণত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শীত ও কুয়াশার কারণে লবণ উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। সম্ভাব্য ঝুঁকি বা সংকট এড়াতে সরকার বিধি অনুযায়ী বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি মণ লবণের বাজারমূল্য ৩৪০ টাকা। গত মৌসুমে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় ৯ হাজার ৯৬৫ একর জমিতে ৭ হাজার ৭৪০ জন চাষি লবণ উৎপাদন করেছিলেন। চলতি মৌসুমে অনুকূল পরিবেশ থাকলে জমি ও চাষির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিসিকের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মাঠে পর্যাপ্ত লবণ মজুত রয়েছে। এই মজুত দিয়ে দেশের প্রায় আড়াই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে নতুন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের লবণচাষিরা। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম, বাজারে কার্যকর তদারকি এবং আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ কাটবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: