
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ছয়টি ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। বর্ষার পানি সময়মতো নেমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিও চাষের আওতায় এসেছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ৩৭৫ হেক্টর এবং উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান ৭ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
এ মৌসুমে বিআর-২২, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-১০৩, বিনা ধান-৭ ও বিনা ধান-১৭ জাতের আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, করাব, মুড়িয়াউক, বামৈ ও মোড়াকরি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে সবুজ ধানের সমারোহ। কোথাও কোথাও আগাম জাতের ধানে শিষ বের হতে শুরু করেছে, আবার কোনো জমিতে ধানগাছে থোড় এসেছে।
মাঠে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সময়মতো বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। কৃষক শাহাজাহান, শহিদুল হক, ফিরোজ আলী, মারাজ মিয়া, জিসান, রেনু মিয়া ও ইলিয়াস জানান, এখন পর্যন্ত ধানের জমিতে উল্লেখযোগ্য রোগবালাইয়ের আক্রমণ দেখা যায়নি। কোথাও কোথাও সামান্য সমস্যা থাকলেও তা তেমন উদ্বেগজনক নয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহাদুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া এবং বর্ষার পানি সময়মতো নেমে যাওয়ায় রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার ফলনও আশানুরূপ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তাঁরা আগের তুলনায় বেশি সচেতন হয়েছেন। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এ অগ্রগতির পেছনে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে লাখাই উপজেলা কৃষি উৎপাদনে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।