নারায়ণগঞ্জে এক রাত থেকে সকাল পর্যন্ত পৃথক তিনটি অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। ফতুল্লায় রাসায়নিকের গুদাম, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার এবং শহরের দেওভোগে বাসার রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লায় একটি রাসায়নিকের গুদামে আগুন লাগে। এতে আনোয়ার ও শামসুল নামে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে শরিফ, তাঁর স্ত্রী রোজিনা, ছোট ভাই রিয়াজ ও রনি নামে চারজন দগ্ধ হন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।
এদিকে একই সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়ার মোড়ের জিউস পুকুরপাড় এলাকায় একটি বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শিখা রানী, মনা আচার্য ও তাঁর মা দগ্ধ হন। এ ঘটনায় বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, ফতুল্লার ঘটনায় দগ্ধ দুজনের শরীরের যথাক্রমে ৫৪ ও ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। কাঁচপুরের ঘটনায় দগ্ধ চারজনের শরীরে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পোড়া রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুর ও দেওভোগের ঘটনায় মোট সাতজন দগ্ধ হয়েছেন। পৃথক ঘটনাগুলোর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক রাতের ব্যবধানে জেলার তিনটি স্থানে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিনিরাপত্তা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাসলাইন ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।