রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী নেতাদের ওপর নজিরবিহীন ধরপাকড় ও বিক্ষোভ দমনের চেষ্টার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার চাইলে যতো পুলিশই মোতায়েন করুক না কেন, সংবিধান রক্ষা ও জনগণের অধিকার আদায়ের এই লড়াই থেকে বিরোধীরা একচুলও পেছু হটবে না।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করা রাহুল গান্ধীর সেই বার্তার বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
দমনপীড়নকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সংগ্রামের ঘোষণা
ভিডিওবার্তায় নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তীব্র আক্রমণাত্মক সুর বজায় রেখে রাহুল গান্ধী বলেন, “মোদি, আপনি যা খুশি করুন। আমরা পিছু হটব না।” তিনি বলেন, আন্দোলন রুখতে সরকার ১০ হাজার, ২০ হাজার এমনকি ৫০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে। সাধারণ তরুণ থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করলেও তাঁদের আত্মত্যাগের মানসিকতা ও আন্দোলনকে থামানো যাবে না। “আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন, আমরা আপনাদের ঘিরে ধরছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব”—এমনটাই হুংকার দেন এই কংগ্রেস নেতা।
‘বিপদের মুখে মোদি-অমিত শাহদের বলয়’
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। ফলে তাঁদের সব ধরনের কৌশল ও চাল সম্পর্কে বিরোধী শিবির ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মতো ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপে পড়ছেন। বিরোধীরা সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়ে তাঁদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে।
সংবিধান রক্ষা ও তরুণদের রাজপথে নামার আহ্বান
দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে এক জোরালো আহ্বান জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের সংবিধান ও গণমানুষের বাকস্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে এই আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। যারা গণতন্ত্র ও সংবিধানের ওপর বারবার আঘাত হেনেছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে তাঁরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে ভারতের সার্বিক সামাজিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো দিন তা হতে না পারে—সেটি নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
দিল্লির রাজপথে নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান এবং চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ হাজারো মানুষকে আটকের দাবির পরপরই রাহুল গান্ধীর এই আগুনে বক্তব্য সমগ্র ভারতের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।