ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থের অনুকূলে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান। সেই সাথে ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে অবাস্তব ও কূটনৈতিক কৌশলহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ইয়ার গোলানের বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
কৌশলগত ভুল ও স্বার্থের প্রশ্ন: গোলান স্পষ্ট করেন যে, খামেনি মৃত্যুর যোগ্য ছিলেন কি না—সেটি এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং তাঁকে হত্যার ফলে ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তাগত ও কৌশলগত সুবিধা কতটা অর্জিত হয়েছে, সেটিই আসল প্রশ্ন। তাঁর মতে, একজন প্রবীণ ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা পদে থাকলে ইসরায়েলের জন্য কিছু কূটনৈতিক সুযোগ বহাল থাকে।
আরও কট্টরপন্থীদের হাতে ক্ষমতা: গোলান মন্তব্য করেন যে, খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ক্ষমতায় আসায় তেহরানের মূল ক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি ঝঁকিপূর্ণ ও কট্টরপন্থী ধারার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফলে কেবল শীর্ষ নেতাকে হত্যা করলেই একটি দেশের রাজনৈতিক অবকাঠামো ভেঙে পড়ে না।
নেতানিয়াহুর নীতির সমালোচনা: নেতানিয়াহুর ইরান সরকার উৎখাতের লক্ষ্যকে অলীক ও অবাস্তব আখ্যা দিয়ে গোলান বলেন, কোনো স্পষ্ট কূটনৈতিক কৌশল ছাড়া এবং কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে এমন লক্ষ্য পূরণ অসম্ভব। তিনি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সামরিক সংঘাতের বদলে বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। খামেনির শাসনামলে ২০০৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফতোয়া জারি ছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে তেহরান-পশ্চিমাদের সম্পর্ক এবং পারমাণবিক নীতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।