মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও শর্ত পৌঁছে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টনেরও বেশি ডিজেল রফতানির অনুমোদন সংক্রান্ত এক নতুন সমঝোতায় পৌঁছেছেন পুতিন ও ট্রাম্প।
যুদ্ধ অবসানে তেহরানের অবস্থান: ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে পুতিন ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে ইরানি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। যদিও ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউস ইরানের শর্তাবলি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেনি, তবে পূর্বে ইরান জলপথ নিরাপত্তা, অবরোধ প্রত্যাহার এবং সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তাকে প্রধান শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভেঙে রুশ ডিজেল আমদানি: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে ট্রাম্প পুতিনের সাথে চুক্তি করেছেন। এর আওতায় রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টন এবং পরবর্তী মাসগুলোতে ১০ লাখ টনেরও বেশি ডিজেল বিশ্ববাজার ও যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদায় সরবরাহ করবে। ট্রাম্পের দাবি—মার্কিন কৃষক, পরিবহণ খাত ও সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির দাম কমানোই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য।
কূটনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব: সংঘাতের মাঝে পুতিনের এই দ্বিমুখী ভূমিকা—একদিকে তেহরান-ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জ্বালানি বাণিজ্য—বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়েছে। তবে এই আলোচনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আসবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বহাল থাকবে, তা নির্ভর করছে উভয় দেশের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।