ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণ প্রজন্মের ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিক্ষোভ শুরুর আগেই ধরপাকড়, মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি জোরদার করায় রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) আন্দোলন ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়। বিক্ষোভের আয়োজক ‘ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল প্রোটেস্ট’ (সিজেপি) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই আয়োজক ও সমর্থকদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলন ঘিরে আলোচনায় থাকা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং দলটির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজ দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে। পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁদের আটক করা হয় বলে অভিযোগ।
এ ছাড়া গুরুগ্রামে নিজের বাসভবন থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকে হেফাজতে নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে এসব আটকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা পুলিশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
রাজধানীজুড়ে কড়া নজরদারি
বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরজুড়ে ২৩ হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট; বাসে তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
আন্দোলনের কেন্দ্র যন্তর-মন্তরে স্থাপন করা হয়েছে সাত স্তরের ব্যারিকেড। এ ছাড়া দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কয়েক শ দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন। ফলে রাজধানীতে যাতায়াত ও জনসমাগমে বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে।
স্পর্শকাতর এলাকায় অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
যন্তর-মন্তর ও আশপাশের এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে গাড়িতে তোলার অভিযোগও উঠেছে। অন্য রাজ্য থেকে বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ মোকাবিলার নামে কার্যত পুরো রাজধানীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ব্রিটাস বলেন, এটি কোনো সাধারণ অবরোধ নয়; পুরো শহরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। একজন সংসদ সদস্য হিসেবেও তিনি দিল্লির রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে অন্তত ছয়টি স্থানে আটকে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিকে গণতন্ত্র বলা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কেন এই আন্দোলন?
ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা এবং রাজধানীতে ব্যাপক বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।