সৌদিতে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা, মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে দায়িত্ব পালনরত জরুরি নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের

2026-10-22T15:14:54+00:00
2026-10-22T15:14:54+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সৌদিতে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা, মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ
দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে হামলায় হতাহত; উপসাগরজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ, জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম 
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস। ছবি: রয়টার্স
সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে দায়িত্ব পালনরত জরুরি নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলায় হতাহতের ঘটনার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই দিনে সৌদি আরবের শাইবাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় আরও দুজন নিহত হন। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা এবং আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবে থাকা জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার কারণে প্রাণহানি ঘটছে এবং যাতায়াতব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবারের হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রয়টার্স। ঘটনাটি দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শাইবাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার পর সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি প্রতিহত করে। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত ও দুজন আহত হন বলে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শাইবাহ তেলক্ষেত্রটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পরিচালনাধীন। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের হামলা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

রয়টার্সকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবে থাকা জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে একই ধরনের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এর আগে বুধবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে আরও হামলার সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। গত মার্চে দূতাবাস ও সেখানে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি স্থাপনাও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে আগে বহু মার্কিন নাগরিক ও কূটনৈতিক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কিছু কর্মীকে আবার ওই অঞ্চলে ফিরিয়ে আনা হয়।

এবার সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে কর্মী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরবের বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির তেলক্ষেত্র, বন্দর ও জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থা আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

রয়টার্সের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের হামলা এবং মার্কিন কর্মী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১১০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৯৮ দশমিক ১২ ডলারে ওঠে।

বিশ্লেষকদের জন্য এখন বড় উদ্বেগ হলো, হামলা আরও বিস্তৃত হলে তা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী প্রত্যাহারের পরিধি আরও বাড়ে কি না, তা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: