সন্তান জন্মের পর মায়েদের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে বাড়িতে নতুন আনা কুকুরছানার যত্ন নিতে আট সপ্তাহের পূর্ণ বেতনের ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি’ চেয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী কর্মী। তাঁর দাবি, ছুটি না দিলে সন্তানহীন নারীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘জোনসি অ্যান্ড আমান্ডা’তে সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তার একটি ভিডিও তুলে ধরা হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, এক কর্মীর ছুটির দাবি নিয়ে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করতে হচ্ছে।
ওই কর্মীকে ছুটি দিতে না চাওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সন্তানধারণে অক্ষম নারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল নন। এ অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়।
রেডিও অনুষ্ঠানে ওই নারী কর্মীর পাঠানো একটি ই-মেইল পড়ে শোনানো হয়। সেখানে তিনি জানান, সম্প্রতি আট সপ্তাহ বয়সী একটি গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুরছানা ঘরে এনেছেন। কুকুরছানাটিকে নিজের সন্তানের মতো দেখভাল করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ই-মেইলে ওই কর্মী লেখেন, ‘সম্প্রতি আট সপ্তাহ বয়সী একটি গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুরছানা ঘরে এনেছি। এখন আমি আরেকটি প্রাণের অভিভাবক। সে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর জেগে ওঠে। আমি একটুও ঘুমাতে পারছি না এবং একজন নতুন মা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, আমিও ঠিক তা-ই অনুভব করছি।’
কর্মীটির দাবি, কুকুরছানাটির নিয়মিত যত্ন নেওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত সামলানো এবং নতুন পরিবেশে তাকে অভ্যস্ত করার জন্য তাঁর পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। এ কারণে তিনি আট সপ্তাহের পূর্ণ বেতনের ছুটি চেয়েছেন।
তবে প্রতিষ্ঠানের এইচআর বিভাগ থেকে তাঁকে জানানো হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি সন্তান জন্ম দেওয়া কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। এর জবাবে ওই কর্মী বলেন, সন্তান জন্ম দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি ছুটি পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।
কুকুরছানাটিকে নিজের ‘ছেলে’ উল্লেখ করে তিনি ছুটি না পেলে সন্তানহীন নারীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নালিশ করার হুঁশিয়ারি দেন।
ঘটনাটি নিয়ে রেডিও অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। অধিকাংশ শ্রোতা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
একজন মা নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই সন্তান সামলানোর দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে মাত্র ছয় সপ্তাহের ছুটি শেষে কাজে ফিরতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে একটি কুকুরছানার জন্য আট সপ্তাহের ছুটি চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ নতুন পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার চাপ বিবেচনায় নিয়ে কর্মীদের ছুটি দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যরা মনে করছেন, পোষা প্রাণীর দেখভালের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো সুবিধা দাবি করা যুক্তিসংগত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পোষা প্রাণী ঘরে আনা বা তার যত্ন নেওয়ার জন্য কর্মীদের আট সপ্তাহের বেতনসহ ছুটি দিতে হবে—এমন কোনো সাধারণ কেন্দ্রীয় আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং পোষা প্রাণীর পরিচর্যার জন্য ছুটি এক বিষয় নয়।
তবে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতিমালার আওতায় নতুন পোষা প্রাণী ঘরে আনার পর কর্মীদের কয়েক দিন বা সীমিত সময়ের ছুটি দিতে পারে। এ ধরনের সুবিধা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
তাই কোনো কর্মী পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার জন্য ছুটি পাবেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, চাকরির চুক্তি এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। শুধু কুকুরছানাকে সন্তানের মতো লালন-পালন করার কারণে প্রচলিত মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না।
ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন, পোষা প্রাণীর যত্ন এবং ছুটির নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।