এলপিজির বাজারে কারসাজি ঠেকাতে চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারি, মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানি

2026-10-09T20:11:51+00:00
2026-10-09T20:11:51+00:00
  শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬,
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
এলপিজির বাজারে কারসাজি ঠেকাতে চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারি, মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানি থেকে শুরু করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে চলছে তদারকি। নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। পাশাপাশি আমদানিকারকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদারকি কমিটি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসক বলেন, বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে প্রশাসন। কোনো পর্যায়ে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি কিংবা অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, দেশের এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে এবং বাকি ১৪টি মোংলায় অবস্থিত। চট্টগ্রামের প্ল্যান্টগুলোতে কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ এলপিজি আমদানি করছে এবং সেই গ্যাস কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন। সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আমদানিকারকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে আমদানির পর কতটুকু গ্যাস ডিলারদের কাছে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে কী পরিমাণ খুচরা বাজারে পৌঁছাচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এলপিজির দাম বাড়ানো ও মজুতদারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে। নতুন মূল্য কার্যকরের পর ক্রেতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

ডিলারদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, দাম বাড়ানোর আগে চট্টগ্রামের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছিলেন, কিছু ডিলার কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন। তবে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আর পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, অভিযোগ না থাকলেও বাজার তদারকি বন্ধ নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক বলেন, আন্তর্জাতিক সংকট, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে এলপিজির চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা হয় মাত্র ১ শতাংশের মতো। বাকি চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে প্রায় ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও এর সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: