ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র কুমারশীল মোড়ে প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা তিনটি ডিজিটাল ঘড়ি উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মধ্যেই বিকল হয়ে পড়েছে। ঘড়িগুলো মেরামতের জন্য খুলে নিয়ে গেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এ ঘটনায় ঘড়ি স্থাপনের কাজের মান ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন দত্ত জানান, ঘড়িগুলো মেরামত করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার কাছে ঠিকাদারের জামানত জমা থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনার পর ঠিকাদার তিনটি ঘড়ি খুলে নিয়ে গেছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের কুমারশীল মোড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে ‘টাইম ওয়াচ’ নামে স্তম্ভের ওপর তিনটি ডিজিটাল ঘড়ি স্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিলে এ কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স শিপু কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৯ টাকা। কাজ শেষে চার মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা ঘড়িগুলো বুঝে নেয়।
তবে স্থাপনের পর থেকেই ঘড়িগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই তিনটি ঘড়িতে তিন রকম সময় দেখা যেত। এর কয়েক মাসের মধ্যেই ঘড়িগুলো বিকল হয়ে পড়ায় প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেক সড়ক ভাঙাচোরা হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এসব সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে শহরের প্রধান সড়কের মোড়ে ডিজিটাল ঘড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ঘড়িগুলো কেন অল্প সময়ের মধ্যে বিকল হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ঘড়ি নষ্ট হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এবং মেরামতের পর সেগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।