বগুড়ার ভবানীগঞ্জ দারুল উলুম নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে পাঠদান চলাকালে শতবর্ষী একটি সেগুনগাছ উপড়ে পড়ে। এতে মাদ্রাসার দুটি কক্ষ ও হিফজ বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টির সময় আকস্মিক ঝড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাছটি উপড়ে মাদ্রাসার টিনশেড ছাউনি ও অবকাঠামোর ওপর পড়ে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু নাসের আপেল মাহমুদ। গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় তরুণদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষে আটকে পড়া অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষ মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তা দেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সেগুনগাছ ছিল। বৃষ্টির মধ্যে গাছটি উপড়ে মাদ্রাসার ওপর পড়ে। সে সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল। গাছটি পড়ার পর হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে।
ইউপি চেয়ারম্যান আবু নাসের আপেল মাহমুদ বলেন, দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোয় শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
দুর্ঘটনায় মাদ্রাসার অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এখন ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষগুলো মেরামত করে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম চালু করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য।