পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করা তারকাদের জন্য পেশার অংশ হলেও পরিবারের সদস্যদের কাছে সেই দৃশ্য দেখা অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনির ক্ষেত্রেও ঘটেছিল তেমন ঘটনা। তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ দেখতে বসে পর্দায় মেয়েকে নগ্ন দৃশ্যে দেখে টেলিভিশন বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান তাঁর বাবা ও দাদা। তবে পরিবারের আরেক সদস্য, তাঁর দাদি, ছিলেন সিডনির কাজের বড় ভক্ত।
২০২৩ সালে এনবিসির ‘সানডে টুডে উইথ উইলি গাইস্ট’ অনুষ্ঠানে নিজের পরিবারের এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন সিডনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মা আগে থেকেই জানতেন সিরিজটিতে কী ধরনের দৃশ্য থাকতে পারে। কারণ, তিনি শুটিং সেটে গিয়েছিলেন এবং মেয়ের চরিত্র ও গল্প সম্পর্কেও ধারণা পেয়েছিলেন।
কিন্তু বাবাকে এ বিষয়ে কিছুই জানাননি সিডনি। বাবার সঙ্গে সাধারণত কাজের চেয়ে পারিবারিক বিষয় নিয়েই বেশি কথা হতো তাঁর। তাই সিরিজে নিজের চরিত্রের অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে বাবার সঙ্গে আলোচনা করাটা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল।
সিডনির অজান্তেই একসময় তাঁর বাবা নিজের বাবা, অর্থাৎ সিডনির দাদাকে নিয়ে ‘ইউফোরিয়া’ দেখতে বসেন। কিন্তু পর্দায় সিডনির অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখে তাঁরা অস্বস্তিতে পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত টেলিভিশন বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান দুজনই।
২০২৩ সালের সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি স্মরণ করে হাসতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। পরিবারের সদস্যদের এমন প্রতিক্রিয়া তাঁর কাছে যেমন মজার অভিজ্ঞতা, তেমনি এটি পর্দার চরিত্র ও বাস্তব জীবনের ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্যটিও সামনে আনে।
অন্যদিকে সিডনির দাদি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দাদি তাঁর কাজের বড় ভক্ত। বিভিন্ন দেশে শুটিংয়ের সময় কখনো কখনো দাদিকেও সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। কোনো কোনো প্রকল্পে দাদিকে অতিরিক্ত চরিত্রে ক্যামেরার সামনে আনার কথাও বলেছেন সিডনি।
‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান সিডনি সুইনি। সিরিজটিতে সম্পর্ক, যৌনতা, শরীর নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক টানাপোড়েনের মতো বিষয় উঠে এসেছে। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ ও নগ্ন দৃশ্যেও অভিনয় করতে হয়েছে।
তবে এসব দৃশ্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ট্রল ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। তাঁর অভিযোগ, সিরিজের দৃশ্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিয়ে পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্ন পোস্টে ট্যাগ করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর ছোট ভাইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টেও এসব পোস্টের ট্যাগ পৌঁছেছিল।
২০২২ সালে ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডনি জানান, এ ধরনের ঘটনা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল। তাঁর অভিনীত চরিত্রের দৃশ্যের কারণে পরিবারের সদস্যদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হওয়াকে অন্যায্য বলে মনে করেন তিনি।
সিডনি সুইনির আরেকটি আক্ষেপ, ‘ইউফোরিয়া’য় তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনার বদলে অনেক সময় নগ্ন দৃশ্যই বেশি গুরুত্ব পায়। ২০২২ সালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সিরিজটিতে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি গর্বিত। কিন্তু নগ্ন দৃশ্যের কারণে অনেকে তাঁর অভিনয়ের মূল্যায়ন করেন না।
অভিনেত্রীর মতে, নারী ও পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বৈত মানদণ্ড দেখা যায়। পুরুষ অভিনেতার শরীর প্রদর্শন অনেক সময় অভিনয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও নারী অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে নগ্ন দৃশ্যই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
‘ইউফোরিয়া’য় ক্যাসি হাওয়ার্ড এমন এক তরুণীর চরিত্র, যে ভালোবাসা, সম্পর্ক ও অন্যের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে নিজের পরিচয় খুঁজতে থাকে। চরিত্রটির গল্প তুলে ধরতে সিরিজে অন্তরঙ্গতা ও নগ্নতাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে পর্দার ক্যাসি আর বাস্তবের সিডনি সুইনি এক নন—এই পার্থক্যটি বারবার সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। দর্শকের কাছে যা অভিনয়ের অংশ, পরিবারের সদস্যদের কাছে তা পরিচিত একজন মানুষকে ভিন্ন পরিস্থিতিতে দেখার অভিজ্ঞতা। সিডনির বাবা ও দাদার অস্বস্তি আর দাদির সমর্থন তাই একই পরিবারের মধ্যেও তারকার কাজ নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ হয়ে রয়েছে।