
মাদকের এমন সহজলভ্যতায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা। তাদের আশঙ্কা, মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠলে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে মাদককেন্দ্রিক অপরাধও।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর, চিলাপাক বাজার ও বুড়িরহাট; কুর্শা ইউনিয়নের চামড়াপট্টি, কলেজ মাঠ, রহিমাপুর চাকলা ঘাট, অনন্তপুর, জিগারতলা, আদর্শগ্রাম ও শিয়ালডাঙ্গা; হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের বালাবাড়ি এবং ইকরচালী ইউনিয়নের বরাতিবাজার ও বামনদীঘিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন কৌশলে এসব এলাকায় মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারকেন্দ্রিক বেচাকেনার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার নির্জন স্থানও লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার কারণে অনেক সময় প্রকাশ্যে বেচাকেনার দৃশ্যও চোখে পড়ে না বলে জানান স্থানীয়রা।
মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ কিশোর ও তরুণদের ঘিরে। অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ, বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি না থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তাদের মতে, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদকের সরবরাহব্যবস্থার ওপর কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতারা আটক হলেও মূল কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। ফলে একজন আটক হওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই অন্যদের মাধ্যমে আবার মাদকের সরবরাহ শুরু হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, এতগুলো এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকলেও মূল সরবরাহকারী ও কারবারিরা কেন আইনের আওতায় আসছেন না?
সচেতন মহলের দাবি, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের আটক করে মাদকের বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ থাকা এলাকাগুলোতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিভাবকদের মতে, তারাগঞ্জে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিচ্ছিন্ন অভিযানের পাশাপাশি মাদকের পুরো সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করে মূল কারবারিদের আইনের আওতায় আনা গেলে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।