
জামালপুরের বকশীগঞ্জে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নয়ামিয়ার বাজারসহ বগারচর ইউনিয়নের সারমারা, টাংগারিপাড়া, মোড়ারপাড়া, গোপালপুর ও ধারারচর এলাকায় হঠাৎ প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং বেশ কিছু বসতবাড়ির চাল ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী সড়কে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে এবং দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
ঝোড়ো বাতাসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এ ছাড়া আগাম জাতের আলু, পেঁয়াজ, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অনেক কৃষকের সদ্য আবাদ করা জমিতে গাছের ডালপালা ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
নয়ামিয়ার বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মন্টু মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ দুপুরে প্রচণ্ড বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অসংখ্য গাছ রাস্তার ওপর পড়ে যায়। এতে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ফসলি জমি ও অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
বগারচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, ‘হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসে বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী সড়কের ওপর বড় বড় গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার হাসান আলী বলেন, ‘প্রচণ্ড বাতাসে বকশীগঞ্জ-সানন্দবাড়ী সড়কের ওপর গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ সরানোর কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চলছে।’