আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ক্রয়াদেশ ধরে রাখতে জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতের প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত কাটানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ জন্য কেন্দ্রীয় ফাইল অনুমোদন প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয় থেকে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ইয়ার্ডের ছাড়পত্র পেতে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের যে বিলম্ব হয়, তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পসংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে শিপইয়ার্ডের অনুমোদন ও ছাড়পত্র পেতে বেশি সময় লাগে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এই সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম থেকেই পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) যুক্ত করে বিশেষ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ শুরু করেছে।
বাণিজ্য ও শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ পেতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য নয়—এমন নিয়ম দিয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাতকে আটকে রাখা যাবে না।
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে পরিবেশ সুরক্ষা ও বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার। এ কারণে সেন্ট্রাল ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশন অনুযায়ী শিপইয়ার্ডগুলোকে ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’ রূপান্তর করতে হবে। নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সভায় শিপইয়ার্ড খাতের পুরোনো ঋণ, বিনিয়োগ ঘাটতি ও অর্থায়ন জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করতে শিপইয়ার্ড মালিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দ্রুত সমন্বিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও আইন ও সংসদ বিষয়ক সচিব লিয়াকত আলী মোল্লাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।