পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠছে পাকিস্তান। হাজারো সমর্থক ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছেন। রাজধানীতে তাদের প্রবেশ ঠেকাতে সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও পিটিআই।
একই সময়ে কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও দলের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিবারের দাবি, তার ডান চোখের বেশির ভাগ দৃষ্টিশক্তি ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে।
গত রবিবার (৪ অক্টোবর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার লাক্কি মারওয়াত শহর থেকে এ লং মার্চ শুরু হয়। ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরের শহরটি থেকে যাত্রা শুরুর পর রাতে কর্মসূচিতে বিরতি দেওয়া হয়। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে আবারও ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে।
পিটিআই জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই লং মার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে কর্মসূচিটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা চলায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লং মার্চটি ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমের একটি শহরে পৌঁছাতে পারে। এ সময় তিনি দেশের জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে লং মার্চ ঘিরে রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। ইমরানের সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পিটিআইয়ের দাবি, দলের নেতারা জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শের জন্য ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে তার দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবিও জানানো হয়। কিন্তু ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পাওয়ায় সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
গত আগস্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ইমরানকে সাময়িকভাবে কারাগার থেকে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছিলেন।
তবে ইমরানের পরিবার ও পিটিআইয়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হয়নি।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস এবং রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০০টির বেশি মামলা রয়েছে। গত বছর দুর্নীতির একটি মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ইমরান বরাবরই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে তার সমর্থকেরা বিক্ষোভে নামেন। একপর্যায়ে সেই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এতে অন্তত আটজন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল।
ইমরানের মুক্তির দাবিতে নতুন এই লং মার্চকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।