ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চত্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে বিশাল বিশাল বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। এসব বিলবোর্ডে ট্রাম্পের নানা ব্যঙ্গাত্মক অবয়বের পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, হরমুজ প্রণালী এবং মার্কিন সামরিক শক্তিকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি ভালিয়াসার চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে ইরানের অবস্থানও তুলে ধরা হচ্ছে।
‘খানাহ-ই-তাররাহান’ বা ‘ডিজাইনার্স হাউস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের ঠোঁট সেলাই করা এবং মুখ বন্ধ অবস্থার বিশাল একটি চিত্র তৈরি করেছে। পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর দৃশ্য। বিলবোর্ডে লেখা—‘অ্যাট দ্য ব্রেকিং পয়েন্ট’।
স্টুডিওটির ব্যবস্থাপক মোস্তফা কাফায়ি বলেন, বড় কোনো ঘটনা ঘটলেই তাদের দল দ্রুত নতুন ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই তৈরি করা হয় নতুন বিলবোর্ড।
তিনি বলেন, “দ্রুত কাজ করা এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
তেহরানের আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি জাদুকরের বাক্সের ভেতর আটকে থাকতে দেখা যায়। তার হাতে কোকা-কোলা ও হ্যামবার্গার। সেখানে লেখা—‘চোখের পলক ফেললেই আপনি গায়েব!’
আরেকটি বিশাল বিলবোর্ডে একজন ইরানি সেনাকে মার্কিন ড্রোনের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এটি হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি ড্রোন আটকের ঘটনার প্রতীকী উপস্থাপন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা—‘ব্যবসা ভালোই চলছে।’
আরেক বিলবোর্ডে উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক পৌরাণিক যোদ্ধাকে দেখানো হয়েছে। তার পেছনে জ্বলছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। সঙ্গে লেখা—‘শয়তানের সেনাবাহিনী আরব উপসাগরে ডুবে মরবে।’
অন্য একটি ছবিতে ট্রাম্পকে পানির নিচে একটি ডলারের নোট ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পাশে লেখা—‘বিশাল বিজয়! হরমুজ প্রণালী।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিলবোর্ড সরকারি অর্থায়নে তৈরি করা হয় এবং ইরান সরকারের বিভিন্ন বার্তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা হয়।
মোস্তফার স্টুডিওতে সংবাদ পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা দল রয়েছে। বিলবোর্ড তৈরিতে ফটোশপের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়। চ্যাটজিপিটি ও ন্যানো ব্যানানার মতো এআই ব্যবহারে তাদের দল দক্ষ বলেও জানান মোস্তফা।
ট্রাম্পকে কেন বারবার এসব ব্যঙ্গাত্মক ছবির কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা বলেন, ট্রাম্প একজন বড় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তিনি যখন কোনো পদক্ষেপ নেন, তখন তাদের পক্ষ থেকেও তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সূত্র: এএফপি, আরব নিউজ