সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’-র ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। চুক্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামাবাদ ৪টি কার্গো বিমানের মাধ্যমে ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র পাঠিয়েছে। এই চালানে মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম এবং হালকা কামান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান কেবল অস্ত্র সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়, ইয়েমেনে মোতায়েন থাকা সৌদি সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের উপদেষ্টারাও সরাসরি কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ত্রিপক্ষীয় জোতের পরীক্ষা: গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির পর ইয়েমেনের এই লড়াইকে জোতের প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৌশলগত কারণে পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি জোটকে সমর্থন দিলেও নিজেদের আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করছে।
সৌদি বাহিনীর বিমান হামলা জোরদার: হুতিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। সম্প্রতি সানায় একটি 'উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু' সহ সাদা ও তাইজে শতাধিক পয়েন্টে হামলা চালানো হয়। জবাবে হুতিরাও রিয়াদ বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হানার দাবি করেছে।
মসজিদে নববীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা: সৌদি জোট জানিয়েছে, পবিত্র নগরী মদিনায় ‘তাইবাহ’ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হুতিদের ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তবে হুতিরা এই হামলার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান: হুতিদের পেছনে সরাসরি ইরান অস্ত্র ও সামরিক পরামর্শ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এখনো প্রকাশ্যে কোনো সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়নি, তবে পাকিস্তানি মডেলের মতো তারাও সৌদি আরবে সামরিক পরামর্শক ও প্রযুক্তি সরবরাহ বজায় রেখেছে।
পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞদের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে ইয়েমেন যুদ্ধে নতুন কৌশলগত মাত্রার সৃষ্টি হয়েছে।