
এসআরবি জানায়, রামপুরার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিচ্চি আল-আমিন, কামাল উদ্দিন ও খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরে পিচ্চি আল-আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তার দুই সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন এবং মো. রিফাত ইসলামকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র (লোহার ছুরি) উদ্ধার করা হয়।
এরপর পিচ্চি আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার আরেক সহযোগী মো. কাওছার খানের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পায় এসআরবি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রামপুরার কুঞ্জবন এলাকা থেকে কাওছারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে কাওছারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খিলগাঁও থানার ভূঁইয়াপাড়া এলাকার একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, পিচ্চি আল-আমিন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে রামপুরা এলাকার নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পুস্ট্যান্ড, ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর বনশ্রী এলাকার ‘গ্রীনজোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ব্যবসা চালু রাখতে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় রামপুরা থানায় মামলা হলে এসআরবি-৩ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় পিচ্চি আল-আমিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি আরও জানায়, পিচ্চি আল-আমিন গত ১২ জুন হাতিরঝিল এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, চাঁদাবাজি, হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার অপর পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এসআরবি।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।