লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরির অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের কেওড়াডুগি এলাকায় ওই কিশোরকে চুরির অভিযোগে আটকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কয়েকজন তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করছে। এ সময় একজন তার মুখেও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। নির্যাতনের সময় কিশোরটি চিৎকার করলেও আশপাশ থেকে কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর কেওড়াডুগি এলাকা থেকে রাকিব হোসেন ও কাইয়ুম নামে দুজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, প্রায় এক মাস আগে হায়দরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন কেওড়াডুগি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ও দোকানে রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ওই কিশোর জড়িত—এমন অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে এলাকার কয়েকজন তাকে হাত-পা বেঁধে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। মারধরকারীদের মধ্যে কিশোরটির ভাইও ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
তবে ওই কিশোর চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুঠোফোনে সে বলে, ‘আমি কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নই। বিনা অপরাধে আমার ওপর চুরির দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু সন্দেহ করে আমাকে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে চোর বানানো হয়েছে।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, হাত-পা বেঁধে কিশোরকে মারধরের ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটক দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।