শরতের ভোরে কুয়াশার চাদর, পলাশবাড়ীতে প্রকৃতির নতুন সাজ

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

শরতের আকাশে তখনও সূর্যের দেখা মেলেনি। চারপাশজুড়ে সাদা কুয়াশার নরম আবরণ। দূরের গাছপালা, বাঁশঝাড় আর মেঠোপথ যেন হারিয়ে গেছে ধোঁয়াশার

2026-10-04T14:49:19+00:00
2026-10-04T14:49:19+00:00
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
শরতের ভোরে কুয়াশার চাদর, পলাশবাড়ীতে প্রকৃতির নতুন সাজ
শিশিরের মুক্তোদানা, কুয়াশার মায়াবী পরশ আর হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
শরতের আকাশে তখনও সূর্যের দেখা মেলেনি। চারপাশজুড়ে সাদা কুয়াশার নরম আবরণ। দূরের গাছপালা, বাঁশঝাড় আর মেঠোপথ যেন হারিয়ে গেছে ধোঁয়াশার ভেতর। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু ভোরের ক্ষীণ আলোয় ঝলমল করছে মুক্তোর দানার মতো। ধানখেতের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু হিমেল বাতাস। প্রকৃতি যেন আপন মনে বদলে নিয়েছে তার সাজ।

রবিবার (৪ অক্টোবর) ভোরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় এমনই মনোরম দৃশ্য। শরতের শেষভাগে এসে গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে অনুভূত হচ্ছে শীতের নীরব আগমন। রাতের আঁধার কাটতেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে কুয়াশার আবছা চাদর। কোথাও কুয়াশা ঘন, কোথাও আবার সূর্যের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তা পাতলা হয়ে আসছে।

সবুজ ঘাসের ওপর শিশির যেন প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো অলংকার। ধানগাছের পাতায় পাতায় ছোট ছোট জলকণা। মেঠোপথের দুপাশে ঝোপঝাড়, পুকুরপাড়ের গাছপালা আর দূরের ফসলের মাঠ কুয়াশার আড়ালে তৈরি করছে এক অপূর্ব দৃশ্য। ভোরের বাতাসে ভেসে আসছে পাখির ডাক। কোথাও কৃষকের পায়ের শব্দ, কোথাও গবাদিপশুর ঘণ্টার মৃদু আওয়াজ—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলার সকাল যেন ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা সৌন্দর্য।

কুয়াশার ফাঁক দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো যখন মাঠের ওপর এসে পড়ে, তখন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। সোনালি রোদের স্পর্শে শিশিরবিন্দু ঝিকমিক করে ওঠে। ধীরে ধীরে কুয়াশার পর্দা সরে গিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সবুজ ধানখেত, গাছের সারি আর গ্রামের ঘরবাড়ি। মনে হয়, প্রকৃতি রাতের অন্ধকার পেরিয়ে নতুন করে সেজে উঠেছে।

খোলা মাঠ ও নদী-জলাশয়সংলগ্ন এলাকায় শীতের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি। ভোরে অনেকেই গায়ে পাতলা চাদর জড়িয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। কৃষকরাও শিশিরভেজা মাঠ পেরিয়ে ছুটছেন নিজেদের ফসলের কাছে। কারও হাতে কাস্তে, কারও কাঁধে কৃষি সরঞ্জাম—জীবিকার তাগিদে শুরু হচ্ছে দিনের কর্মব্যস্ততা। অথচ চারপাশের প্রকৃতি তখনও মগ্ন তার নিজস্ব সৌন্দর্যে।

স্থানীয় সাংবাদিক এসআই হাবিব বলেন, কয়েক দিন ধরে ভোরের প্রকৃতিতে পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কুয়াশা, শিশির ও ঠান্ডা বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোরের সময় প্রকৃতির রূপ এখন অনেকটাই বদলে গেছে।

গবাদিপশু চিকিৎসক লিপন বলেন, সকালে ঠান্ডাভাব বাড়লেও দিনের বেলায় এখনো তাপমাত্রা বেশ উষ্ণ। ফলে একদিকে ভোরে শীতের আমেজ, অন্যদিকে দিনের বেলায় গরম—এমন বৈপরীত্যই এখন প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে।

দিনের তাপমাত্রা এখনো প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাস মানুষের মনে শীতের অনুভূতি জাগাচ্ছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন যেন ঋতুর পাতায় লেখা এক নীরব বার্তা—শরৎ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর ধীরে ধীরে দরজায় কড়া নাড়ছে শীত।

পলাশবাড়ীর গ্রামীণ জনপদে তাই এখন ভোর মানেই কুয়াশার মায়া, ঘাসে শিশিরের ঝিলিক, পাখির কলতান আর হিমেল বাতাসের কোমল স্পর্শ। প্রকৃতি যেন প্রতিদিন সকালে নতুন করে বলে যাচ্ছে—বাংলার ঋতুচক্রে আরেকটি পরিবর্তনের সময় এসে গেছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: