
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডেতে একটি আউটের সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, যিনি ম্যাচটিতে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন।
ঘটনাটি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার ৩০তম ওভারের শেষ বলে। ভারতের নামান ধীরের করা বল অফ সাইডে খেলতে যান শেরফান রাদারফোর্ড। বলটি তাঁর ব্যাটের পাশ দিয়ে গিয়ে উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুলের গ্লাভসে জমা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় খেলোয়াড়দের আবেদনের পর মাঠের আম্পায়ার তাঁকে আউট দেন।
তবে সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না রাদারফোর্ড। তিনি দ্রুত ডিআরএসের সাহায্য নেন। রিপ্লেতে আলট্রাএজে বল ব্যাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি স্পাইক দেখা যায়। কিন্তু বিতর্কের সূত্রপাত হয় সেখানেই। কারণ একই সময়ে রাদারফোর্ডের ব্যাট তাঁর প্যাডের সঙ্গেও ঘষা খাচ্ছিল। ফলে আলট্রাএজের স্পাইকটি বল-ব্যাটের সংস্পর্শে তৈরি হয়েছে, নাকি ব্যাট-প্যাডের ঘর্ষণ থেকে এসেছে—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ধীরগতির রিপ্লেতে ব্যাট ও বলের মধ্যে সামান্য ফাঁক দেখা গেছে বলে দাবি করেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তাদের মতে, ওই অবস্থায় স্পাইকটিকে সরাসরি ব্যাটে বল লাগার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে সবকিছু পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। অর্থাৎ রাদারফোর্ডকে আউট ঘোষণা করা হয়। ২৫ বলে ২৪ রান করে মাঠ ছাড়তে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটারকে।
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আম্পায়ারের সঙ্গে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাদারফোর্ড। তাঁর দাবি ছিল, বল তাঁর ব্যাটে স্পর্শ করেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়াও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মত, রাদারফোর্ডকে নট আউট দেওয়া যেত এবং আলট্রাএজে দেখা স্পাইকটি ব্যাট-প্যাডের সংস্পর্শ থেকেও তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তবে বিতর্কের মধ্যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতে নেয়। ভারতের দেওয়া ৩৫২ রানের লক্ষ্য ১০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় শাই হোপের দল। ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে শেষ হয়। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ভারত সিরিজ নিশ্চিত করলেও শেষ ম্যাচের জয় দিয়ে ধবলধোলাই এড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রাদারফোর্ডের আউটের সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য ম্যাচের ফলাফলের বাইরেও আলাদা আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ডিআরএস ও আলট্রাএজের মতো প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তে দৃশ্যমান প্রমাণের ব্যাখ্যা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এই ম্যাচের ঘটনা নতুন করে সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে।