
শনিবার (৩ অক্টোবর) শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ৬৩ রানে হেরে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের দায় স্বীকার করেন সালাহউদ্দীন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে খুবই লজ্জিত। কোচ হিসেবে মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। জাতির কাছে যে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলাম, আমরা সেটার কিছুই করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক। আমরা লজ্জিত এবং পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’
ম্যাচে শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখলেও শেষ দিকে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে শেষ ১০ ওভারে ১৬৫ রান তুলে বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় তারা।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস—তিনজনই কোনো রান না করে ফিরে যান। দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দল। শেষ দিকে নাসুম আহমেদের ২৬ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ এক শ ছাড়ালেও জয় থেকে দূরেই থাকতে হয় তাদের। পুরো দল অলআউট হয় ১০২ রানে।
পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাহউদ্দীন বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কয়েকটি ওভারে বোলাররা অতিরিক্ত রান দিয়েছেন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিজ্ঞ মূল বোলারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পাওয়ারপ্লেতে একের পর এক উইকেট হারানোয় ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও কমে যায়।
এদিকে দলের ব্যর্থতা সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর ভাষ্য, দেশের হয়ে খেলতে নামা ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এবার দল হিসেবে প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে বলেও জানান তিনি।
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে বাংলাদেশের আগের তিনটি অংশগ্রহণেই পদক ছিল। ২০১০ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতেছিল দলটি। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও পদকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেমিফাইনাল ও ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পরপর দুই হারে সেই আশা পূরণ হয়নি। ফলে জাপানের আসর থেকে পদকহীন ফেরার হতাশা নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।