
ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মা। শুরুতে অভিষেকের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর শেষ দিকে তিলকের ঝোড়ো ফিফটিতে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চড়াও হন অভিষেক। মাত্র ২০ বলেই ফিফটি পূরণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৭টি ছক্কা। বৈভব সূর্যবংশীও শুরুতে ৯ বলে ১৫ রান করে ভারতের রান বাড়াতে সহায়তা করেন।
পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৮১ রান তুলে বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে ভারত। তবে মাঝের ওভারগুলোতে গতি কিছুটা কমে যায়। সঞ্জু স্যামসন ২ রান করে ফেরেন। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে করেন ২১ রান। ইশান কিষানও ১৮ বলে ২০ রানের বেশি করতে পারেননি।
১৬ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১৪২ রান। সেখান থেকে শেষ চার ওভারে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন তিলক ভার্মা। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন তিনি। ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটির স্ট্রাইক রেট ২৩১-এর বেশি। তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন শিবম দুবে। ১৫ বলে ২৭ রান করেন এই অলরাউন্ডার। শেষ তিন ওভারে ৫৭ রান তুলে ভারতকে ৬ উইকেটে ২১১ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন তারা।
জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল ধীরগতির। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ৩৯ রান তুলতে পারে তারা। পরে হাসান নেওয়াজের ব্যাটে ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫০ বলে ৯৬ রান করেন তিনি। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি হাসান।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রান করে পাকিস্তান। ফলে ১৯ রানের জয় নিয়ে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে সোনা নিশ্চিত করে ভারত।
এশিয়ান গেমসের সর্বশেষ আসরেও ছেলেদের ক্রিকেটে সোনা জিতেছিল ভারত। এবারও শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেটেও সোনা জেতায় দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হলো তারা।
ফাইনালজুড়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চেনা উত্তাপও ছিল। টসের সময় দুই অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও সাহিবজাদা ফারহান হাত মেলাননি। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও দেখা যায়নি করমর্দন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২১১/৬ (২০ ওভার) — অভিষেক ৬১, তিলক ৫১*, শিবম দুবে ২৭।
পাকিস্তান: ১৯২/৬ (২০ ওভার) — হাসান নেওয়াজ ৯৬, সাইম ২৯।
ফল: ভারত ১৯ রানে জয়ী।