বর্ষার পানি নেমে গেলেও বিল থেকে সরছে না কচুরিপানার বিশাল স্তূপ। উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৫ নম্বর চামারী ইউনিয়নের কান্দি-ঘুটিয়া-মহিষমারী গ্রামের বিলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঢেকে গেছে। এতে প্রায় ৩০০ একর জমিতে এবার বোরো ধান চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শতাধিক কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ, পানি নেমে যাওয়ার পরও জমিতে আটকে থাকা কচুরিপানার কারণে স্বাভাবিকভাবে জমি চাষের উপযোগী করা যাচ্ছে না। ফলে জমি পরিষ্কার করতে বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে। এতে বোরো মৌসুম শুরুর আগেই বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ।
কৃষকদের হিসাবে, প্রতি বিঘা জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। কৃষি উপকরণ, সার, তেলসহ অন্যান্য খরচের সঙ্গে নতুন করে এই বাড়তি ব্যয় যুক্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
সরেজমিনে কান্দি-ঘুটিয়া-মহিষমারী বিলে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কৃষকরা জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণ করছেন। কেউ কোমরপানিতে নেমে কচুরিপানা টেনে তুলছেন, আবার কেউ সেগুলো জমির আইলে স্তূপ করে রাখছেন। দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত শ্রমের কারণে ধীরগতিতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
কৃষক মোহাম্মদ কাদের মুধা জানান, তার ১০ বিঘা জমিতেই কচুরিপানা জমে আছে। তিনি বলেন, ‘কচুরিপানা পরিষ্কার শুরু করেছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তিন বিঘা পরিষ্কার করতে পেরেছি। এখনো সাত বিঘা জমি পরিষ্কার করা বাকি।’
কৃষক মোস্তফা প্রামাণিক ও শামসু মোল্লা বলেন, এমনিতেই তেল, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বেশি। এর মধ্যে জমি থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে এবার বোরো ধানের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
কৃষক সাদ্দাক, খোরশেদ ও কুদ্দু প্রামাণিক জানান, কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক কৃষক বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করা না গেলে বিলের প্রায় ৪০ শতাংশ জমি অনাবাদি থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের দাবি, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করা গেলে কম খরচে জমি চাষের উপযোগী করা সম্ভব হবে। এ জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। দ্রুত কৃষকরা যেন সমস্যা কাটিয়ে বোরো আবাদ শুরু করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’