গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ উপদেষ্টা (মন্ত্রিপদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশে লুটপাটতন্ত্র কায়েম করে পালিয়ে গেছে। তারা রেখে গেছে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ঋণখেলাপিতে জর্জরিত একটি দেশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় যাওয়ার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা চত্বরে আয়োজিত যাত্রাপথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন না করলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার উদাহরণ রেখে গেছে পতিত সরকার। তারা উন্নয়নের নামে লুটপাটতন্ত্র কায়েম করে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জে শুধু অট্টালিকা বানিয়ে ট্রমা সেন্টার করা হয়েছে। সেখানে ডাক্তার নেই, মানুষ নেই, রোগীও যায় না। অথচ যেখানে প্রকৃতপক্ষে ট্রমা সেন্টার প্রয়োজন, সেই ভাঙ্গায় এখনো ট্রমা সেন্টার নেই। এটি দুঃখজনক।’ এ সময় তিনি ভাঙ্গায় দ্রুত ট্রমা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দেন।
তিতুমীর আরও বলেন, বিগত সময়ে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হয়েছিল, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার ছিল না। ওই সরকার দেশে লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছিল।
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের কথা ভাবছেন। তিনি বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী ও ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে চান।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে তখন ভঙ্গুর অর্থনীতি ছিল। সেই জায়গা থেকে জিয়াউর রহমান দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও সেই পথ অনুসরণ করে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে ভাঙ্গা থেকে ঢাকার দূরত্ব এখন মাত্র এক ঘণ্টা। তবে গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে ভাঙ্গার সংযোগ না হলে পদ্মা সেতু এখানে হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এর বাইরে ভাঙ্গায় তেমন কিছুই হয়নি। একটি হাসপাতাল হয়েছিল জিয়াউর রহমানের আমলে। পরে বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালটি ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। এবার প্রধানমন্ত্রী ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেছেন। আগামীতে এটিকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার আশ্বাসও দিয়েছেন।’
শহিদুল ইসলাম বাবুল আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আমলে একটি মহিলা কলেজ এমপিওভুক্ত হয়েছিল। বর্তমানে সেটিকে সরকারি করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘১৭ বছর শুধু উন্নয়ন, উন্নয়ন আর উন্নয়নের কথা শুনেছি। কোথায় হয়েছে সেই উন্নয়ন? উন্নয়নের নামে শুধু লুটপাট করে খেয়ে পালিয়ে গেছে।’
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফজলে সোবহান শামীম, সাইদ মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বিটু মুন্সী, কৃষক দলের সভাপতি খন্দকার আব্দুস সামাদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।