ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে অবস্থিত একটি কারাগারে প্রভাবশালী কয়েদিদের অলিশান ও বিলাসী জীবনযাপনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি তদারকি সংস্থা ওম্বুডসম্যানের এক আকস্মিক অভিযানে কারাগারের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), বড় পর্দার টেলিভিশন, সোফা, রেফ্রিজারেটর এবং সুইমিং পুলসহ অ্যাপার্টমেন্ট-ধাঁচের গোপন এলাকার সন্ধান মেলে। এই ঘটনায় চরম অনিয়মের অভিযোগে ওই কারাগারের পাঁচ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
'সিবিনং ক্লাস টুএ' নামের চার হেক্টর আয়তনের এই মাঝারি-উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারটিতে মূলত আর্থিক জালিয়াতিসহ গুরুতর 'হোয়াইট-কলার' অপরাধে দণ্ডিত কয়েদিদের রাখা হয়।
তল্লাশি অভিযানে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ:
গোপন বিলাসী আবাসন: কারাগার প্রধানের বাসভবনের পেছনে কাঠের বেড়া দিয়ে ঘেরা জায়গায় ১০টি ভিআইপি আবাসিক ইউনিট পাওয়া যায়, যেগুলো সাধারণ জেলখানার পরিবর্তে অ্যাপার্টমেন্ট বা ভিলার মতো সাজানো ছিল।
রাজকীয় সুবিধা ও গাড়ি: চত্বরের ভেতর একটি সুইমিং পুল, জিমনেসিয়াম এবং নির্মাণাধীন গলফ সিমুলেটরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এমনকি কয়েদিদের ব্যবহারের জন্য টয়োটা আলফার্ড ও টয়োটা ফরচুনারের মতো দামি বিলাসবহুল গাড়িও সেখানে রাখা ছিল।
গোপন যাতায়াত পথ: তল্লাশি চৌকি এড়িয়ে সম্পূর্ণ গোপনে বাইরে যাতায়াত করার জন্য একটি বাঁশঝাড় ও আবর্জনা ফেলার স্থানের মধ্য দিয়ে গোপন একটি রাস্তার খোঁজ পান তদন্তকারীরা।
ওম্বুডসম্যান প্রতিনিধি সাফ্রিয়াদা রাচমাওয়াতি রাসাহান জানান, ধনী ও প্রভাবশালী কিছু বন্দি সাধারণ কয়েদিদের তুলনায় অনৈতিকভাবে এমন রাজকীয় সুবিধা ভোগ করছিলেন। এই ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার প্রশাসনিক সংস্কার ও ধনী কয়েদিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।