কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে শহরের শত শত হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের দেড় মাস পরও কলকাতার প্রায় ৭০ শতাংশ হোটেল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তবে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা হোটেলগুলো ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন দমকলমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হোটেল বন্ধ রাখা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। যেসব হোটেল নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নির্দেশনা মেনে চলবে, সেগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, হোটেলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করেন। নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে আবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটুক এবং প্রাণহানি হোক—এটি তারা চান না। তাই সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
দমকলমন্ত্রী জানান, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা না মানায় যেমন নতুন করে কিছু হোটেল বন্ধের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, তেমনি নিয়ম মেনে চলা অনেক হোটেলকে পুনরায় চালুর অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলে হোটেল চালাতে কোনো বাধা নেই। সরকার চায় সব হোটেল ব্যবসা করুক, কারণ এর সঙ্গে অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত।
এদিকে হোটেল বন্ধ থাকায় কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের আবাসন সংকট ও অতিরিক্ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পরিচিত অনেক হোটেল বন্ধ থাকায় বিকল্প আবাসন খুঁজতে হচ্ছে তাদের।
দমকলমন্ত্রী বলেন, সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করা হোটেলগুলো খুলে দেওয়া হবে।