তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেরি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে খুশি রাখব।’
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ট্রাম্প বলেন, এরদোয়ান তাঁর বন্ধু এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তবে তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ঠিক কবে প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি তিনি।
এর আগে জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের সময় এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আঙ্কারার ওপর আরোপিত CAATSA নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সে সময় তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনার কথা বলেছিলেন তিনি।
২০২০ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্কের বিরুদ্ধে CAATSA-এর আওতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। একই কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয়।
তুরস্কের এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, রাশিয়ার তৈরি এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা ও ন্যাটোর সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে আঙ্কারার বক্তব্য, নিজেদের জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষার প্রয়োজন মেটাতেই রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কিনেছে তারা।
তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে দেশটির ফেরার সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই আঙ্কারা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। জুলাইয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বর্তমানে ভালো এবং এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে মার্কিন আইন ও কংগ্রেসের অবস্থান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে আছে।
ফলে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ নিয়ে আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।