দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে রাতের আঁধারে এক কৃষকের ৭০ শতক জমির লাউক্ষেত কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. রেজাউল করিম।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের পদুমহার মৌজায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে ক্ষেতের গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান কৃষক রেজাউল করিম।
স্থানীয় সূত্র ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি বন্ধক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যা করে লাউ চাষ করছিলেন রেজাউল। গাছে ফলনও আসতে শুরু করেছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারে লাউ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখার আশা করেছিলেন তিনি। এরই মধ্যে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ক্ষেতের গাছগুলো কেটে দেয় বলে অভিযোগ।
রেজাউল করিম জানান, প্রতিদিনের মতো গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জমিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। গাছের সঙ্গে তার কয়েক মাসের পরিশ্রম ও বিনিয়োগও যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘ধারদেনা করে এবং জমি বন্ধক নিয়ে লাউ চাষ করেছিলাম। গাছে ভালো ফলন এসেছিল। কিন্তু কে বা কারা রাতের আঁধারে সব গাছ কেটে দিয়েছে। এতে আমার প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি চাই।’
ঘটনার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন কৃষককে ফসল ফলাতে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। এভাবে রাতের আঁধারে ফসল নষ্ট করে দেওয়া হলে কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে।
এলাকাবাসী ও কৃষকেরা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে কৃষকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা পুরো লাউক্ষেত কেটে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।