দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ আমন ধানের সমারোহ। বাতাসের দোলায় দুলছে ধানের গাছ, কোথাও বেরিয়েছে শীষ, আবার কোথাও শীষে দুধ আসার অপেক্ষা। সবুজে ঘেরা মাঠজুড়ে কৃষকের মনে এখন ভালো ফলনের স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতে চলতি মৌসুমে আমন ধানের ক্ষেতের অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় আশাবাদী কৃষকরা।
উপজেলার নিজপাড়া, সাতোর, সুজালপুর, ভোগনগর, মোহনপুর, পলাশবাড়ী, মরিচা ও শতগ্রাম ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে এখন চোখে পড়ে আমন ধানের মনোরম দৃশ্য। মাঠের পর মাঠ সবুজ ধানে ছেয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার প্রয়োগ করছেন, আবার কেউ ধানের রোগবালাই পর্যবেক্ষণ করছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ায় ধানের গাছ বেশ সতেজ রয়েছে। এখন পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেতের অবস্থা ভালো। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ার ওপর নির্ভর করছে কাঙ্ক্ষিত ফলন।
নিজপাড়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘এবার ধানের অবস্থা বেশ ভালো। বৃষ্টিও সময়মতো হয়েছে। এভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।’
সাতোর ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধানের ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা দেখে তাঁদের মন ভরে যাচ্ছে। কয়েক মাসের পরিশ্রমের ফল এখন মাঠে দৃশ্যমান। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম না পেলে কৃষকদের লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বীরগঞ্জের বহু পরিবারের প্রধান জীবিকার উৎস কৃষি। বিশেষ করে আমন ধানের ফলনের ওপর অনেক পরিবারের সারা বছরের খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থিক সচ্ছলতা নির্ভর করে। ফলে এ মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা কৃষকদের মধ্যে বরাবরই বেশি থাকে।
এদিকে আমন ধানের উৎপাদন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষেত পরিদর্শন, কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং রোগবালাই দমনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমন ধানের আবাদ সন্তোষজনক হয়েছে। অধিকাংশ জমির ধানও ভালো অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমন ধানের ক্ষেতে মাজরা পোকা, বাদামি ফড়িং ও পাতামোড়ানো পোকার আক্রমণসহ বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিতে পারে। এ জন্য কৃষকদের নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে বীরগঞ্জের মাঠে এখন সবুজ ধানের সমারোহ ঘিরে কৃষকদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এ মৌসুমে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।