গ্রীষ্মের আমের মৌসুম শেষ হয়েছে বেশ আগেই। বাজারে এখন দেশি-বিদেশি নানা ফলের সমাহার। তবে নওগাঁর সাপাহার ও পোরশার আমবাগানগুলোতে এখনো ঝুলছে পাকা আম। বারোমাসি জাতের ‘কাটিমন’ আমের কারণে মৌসুম শেষেও জমজমাট রয়েছে আমের বাজার।
অফ-সিজনে বাজারে আসায় কাটিমন আমের দামও তুলনামূলক বেশি। এতে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। একই সঙ্গে বছরজুড়ে আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চাষিরা জানান, সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা করলে কাটিমন গাছে বছরের অন্য সময়েও ফলন পাওয়া যায়। মৌসুমের তুলনায় অফ-সিজনে আমের দাম বেশি থাকায় এ জাত চাষে লাভও ভালো হচ্ছে। সাপাহারের স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে এসব আম।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ২৫৫ হেক্টর জমিতে কাটিমন আমের চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ১৯০ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কাটিমন চাষের পরিমাণ বেড়েছে।
এর মধ্যে শুধু সাপাহার উপজেলাতেই ১৫০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আমের চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টন ফলন ধরে চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন কাটিমন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাটিমন আম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারি বাজারে প্রতি মণ আমের দাম উঠছে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। কৃষি বিভাগের হিসাবে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার কাটিমন আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক জাতের কাটিমন আমের চাষ এবং কৃষকদের আধুনিক পরিচর্যা পদ্ধতি আম উৎপাদনের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনছে। শুধু গ্রীষ্মকালেই নয়, বছরের বিভিন্ন সময় আম উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় চাষিরা বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা পাচ্ছেন।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রেজাউল করিম বলেন, আধুনিক জাত ‘কাটিমন’ ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে আম শুধু গ্রীষ্মকালেই উৎপাদন হবে—এ ধারণা বদলে যাচ্ছে। অফ-সিজন আম চাষে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, অফ-সিজনে আম উৎপাদনের এ ধারা আরও বিস্তৃত হলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
মৌসুম শেষ হওয়ার পরও গাছে গাছে কাটিমন আম এবং বাজারে এর চাহিদা দেখে তাই নতুন সম্ভাবনা দেখছেন সাপাহার ও পোরশার আমচাষিরা।