শরতের নীল আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানখেত। বাতাসে দুলছে পাকা হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ধানের শীষ। মাঠজুড়ে এখন কৃষকের ব্যস্ততা—রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষা ও শেষ সময়ের পরিচর্যায় দিন কাটছে তাদের। ধানের শীষে দানা আসতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের কৃষকেরা।
উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক চরপুমদী গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে এখন রোপা আমন ধানের এমন চিত্র দেখা গেছে। সবুজ থেকে ধীরে ধীরে সোনালি রূপ নিতে শুরু করেছে ধানের খেত। কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় মোট ৮ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি হেক্টরে ৪ থেকে সাড়ে ৪ টন হারে এবার মোট ৩৩ হাজার থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। মাঠের বর্তমান অবস্থা দেখে রোপা আমনে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। ধানের রোগবালাই শনাক্ত ও দমনসহ সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সময়মতো বীজ, সার ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পাওয়ায় এবার ধানের খেতের অবস্থা ভালো। এখন বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।
কৃষকদের প্রত্যাশা, মাঠের এই সবুজ-সোনালি ধান শেষ পর্যন্ত ঘরে উঠলে শুধু তাদের মুখেই হাসি ফুটবে না, স্বস্তি ফিরবে পুরো কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোতেও। ভালো ফলনের আশায় তাই এখন প্রতিটি ধানের শীষের দিকে তাকিয়ে আছেন হোসেনপুরের কৃষকেরা।