এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক ফল পরিবর্তনের ঘটনায় উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, কোন পরীক্ষকের মূল্যায়নে কী ধরনের দুর্বলতা ছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। মূল ফলাফলে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।
মন্ত্রী জানান, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। আর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই প্রক্রিয়ায় ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
এত বিপুলসংখ্যক ফল পরিবর্তনের বিষয়টিকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পুনঃনিরীক্ষণে যেসব উত্তরপত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, সেগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মন্ত্রীর ভাষ্য, এসব খাতা কোন কোন পরীক্ষক মূল্যায়ন করেছেন, তা শনাক্ত করা হয়েছে। একটি কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতির দুর্বলতা যাচাই করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এত বড় সংখ্যায় নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরও কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অতীতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বা দুর্বলতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে জানানো হবে।
এদিকে ফল পুনঃনিরীক্ষণের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার আইন সংশোধনের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুরোপুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। আগে মূলত ট্যাবুলেশন শিটে নম্বর যোগের বিষয়টি যাচাই করা হতো।
প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বদলি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নয়। চলমান প্রক্রিয়া শেষ করার পাশাপাশি শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠেকাতে ভবিষ্যতে অনলাইনভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে।