সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চায়ের আড্ডা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা ও এলাকার উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে চলছে আলোচনা।
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সোহেল, আব্দুল কাইয়ুম মুজিব, আজিজুর রহমান, হাসান আহমদ, এস এম পারভেজ, জামিল আহমদ আসুক, সাইফুল ইসলাম সিহাব ও নজরুল ইসলামের নাম রয়েছে। তবে তাঁদের প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সোহেলের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নদীভাঙন প্রতিরোধে ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রারাই এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙে পানি প্রবেশের ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ওই সময়ের বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতির তথ্য উঠে আসে।
সোহেলের সমর্থকদের ভাষ্য, ওই বন্যার সময় তিনি নৌকায় করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং রারাই এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে নদীভাঙন ও বাঁধ রক্ষার কাজে যুক্ত ছিলেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বাঁধ রক্ষার সময় বিভিন্ন বাধার মুখেও তিনি কাজ চালিয়ে যান বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব নির্দিষ্ট দাবির স্বাধীন প্রামাণ্য নথি বা একাধিক নিরপেক্ষ সূত্র পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও সমর্থকদের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্যেও নদীভাঙনের সময় সোহেলের ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। স্থানীয় প্রবীণ আবুল খায়েরের দাবি, ওই সময়ে তাঁর সাহসী ভূমিকা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। স্থানীয় আব্দুস শহিদও দাবি করেছেন, নদীভাঙনে তাঁর বাড়ির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাতের বেলায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বাঁধ রক্ষায় কাজ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ও জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম আব্দুল খালিক তাপাদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখে সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং বাঁধ রক্ষার কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন—এমন দাবিও তাঁর পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
সোহেলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তৎকালীন ৫ নম্বর জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব আহমদ তাঁকে ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে সম্মাননা ও সমাজসেবক হিসেবে একটি সনদ দিয়েছিলেন। তবে এ সংক্রান্ত নথি বা স্বাধীন সূত্র পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও নিশ্চিতভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সম্ভব হবে।
জকিগঞ্জের নদীভাঙন ও বাঁধ রক্ষার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ডাইক ভাঙন ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। রারাই এলাকাতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডাইক ভেঙে পানি প্রবেশের ঘটনা সংবাদে এসেছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনাই হতে পারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব সামাজিক, পেশাগত ও রাজনৈতিক পরিচয়। নির্বাচন সামনে রেখে তাঁদের অতীত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও স্থানীয়দের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
নদীভাঙন ও বন্যা মোকাবিলা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছ ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং নাগরিকসেবা সহজ করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন—এসব বিষয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বর্তমানে কোনো নির্ভরযোগ্য ভোট জরিপ বা নির্বাচনী তথ্যের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীকে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের বক্তব্য, অতীতের কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।