পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সোনাকুর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে একের পর এক বসতঘর, বিদ্যুতের খুঁটি ও মৃৎশিল্পের পুঁইন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের তীব্রতায় এখন হুমকির মুখে রয়েছে এলাকার পাঁচটি মন্দির। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় এসব মন্দিরও সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
রবিবার সকালে উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের সোনাকুর এলাকায় হঠাৎ করে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। মুহূর্তের মধ্যে মনা পালের বসতঘর, বিদ্যুতের খুঁটি ও তারসহ প্রায় দুই একর জমি নদীতে চলে যায়। একই সঙ্গে নদীর পাড়ে থাকা কয়েকটি মৃৎশিল্প তৈরির পুঁইনও ভাঙনের কবলে পড়ে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা মন্দিরগুলো হলো—লোকনাথ মন্দির, দুর্গা মন্দির, গঙ্গা মন্দির, কালী মন্দির ও শীতলা মন্দির। স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরগুলোর চারপাশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ে এগুলো নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় রঞ্জিত পাল জানান, সকালে নদীর পাড়ে মাছ ধরতে গিয়ে তিনি ভাঙন দেখতে পান। পরে ডাক-চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা দ্রুত মন্দির ও বসতঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল সরানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই বিকট শব্দে নদীর পাড়ের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে।
মন্দিরগুলোর সভাপতি হরিপদ কুণ্ড ও সাধারণ সম্পাদক অমল পাল জানান, হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে সোনাকুর এলাকায় প্রায় ২০টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আরও ১০টি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। নতুন করে অমল পাল, পরিমল পাল, তৃপ্তি পাল, রবি মালো, বিপুল মালো, সুমন মালো, সঞ্জীব মালো, রঞ্জিত মালো ও রমন পালের বসতঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজা সামনে রেখে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। ভাঙন শুরু হলে কারিগররা নিরাপদে সরে যেতে পারলেও তৈরি করা কয়েকটি প্রতিমা নদীতে পড়ে ভেঙে যায়। পাশাপাশি তিনটি মৃৎশিল্পের পুঁইনও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে। সেখানে পোরানোর জন্য তৈরি করে রাখা রয়েছে হাজার হাজার টালি। স্থানীয়রা সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার নদীতে পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবির পর ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাটি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কয়েকজন সদস্য জানান, ঘরবাড়ি ও মালামাল সরানোর ব্যস্ততার মধ্যে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে কয়েকটি পরিবার সকাল থেকে না খেয়ে রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন আমরাজুড়ী ইউনিয়নের প্রশাসক ও আইসিটি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে পাঁচটি মন্দিরসহ আরও বহু বসতঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানিয়ে বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।