মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আখাউড়া-সিলেট রেলপথের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন ৮৩ নম্বর লেভেল ক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে গেটম্যান ছাড়াই চলছে। ব্যস্ত সড়কের ওপর থাকা এই ক্রসিংয়ে কোনো গেট বা নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছেন শত শত যানবাহনের চালক, পথচারী ও শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেললাইন স্থাপনের পর থেকে এই লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ক্রসিংয়ের দুই পাশে শুধু সংকেতবাতি ও কলিংবেল রয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলের সময় পথচারী ও যানবাহনের নিরাপত্তা অনেকটাই সতর্কতার ওপর নির্ভর করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আখাউড়া-সিলেট রেলপথের এই ব্যস্ত রুট দিয়ে পারাবত, পাহাড়িকা, উদয়ন, কালনী ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তনগর ট্রেন আপ ও ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ বার চলাচল করে। এ ছাড়া এক দিন পরপর লোকাল ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনও এই রেলপথ ব্যবহার করে।
দ্রুতগতির ট্রেন নিয়মিত চলাচল করলেও লেভেল ক্রসিংয়ে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের পাশের প্রধান সড়কটি স্থানীয়দের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের পথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। একই পথে আশপাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগে ক্রসিংটির কিছু উন্নয়নকাজ করা হলেও গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু সংকেতবাতি ও কলিংবেল দিয়ে ব্যস্ত এই লেভেল ক্রসিংয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।
তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী গেট নির্মাণের পাশাপাশি গেটম্যান নিয়োগ করে লেভেল ক্রসিংটি নিরাপদ করা হোক।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার গৌড় প্রসাদ দাশ পলাশ বলেন, “রেলওয়ের নকশা অনুযায়ী এখানে গেট না থাকায় কোনো গেটকিপার নেই। বিকল্প হিসেবে ক্রসিংয়ের দুই পাশে সংকেতবাতি ও কলিংবেল লাগানো হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।