জামালপুরের বকশীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে প্রায় দুই মাস ধরে পাশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। এতে দেড় শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ভোরে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর আগে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে হচ্ছে প্রাথমিকের সব পাঠদান। ফলে কমে গেছে ক্লাসের সময়, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে পাশের কেবি মডেল সেসিপ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবনে প্রাথমিকের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার আগেই বই-খাতা হাতে শিক্ষার্থীরা কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে হাজির হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৬টায় ক্লাস শুরু হয়ে ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যেই দিনের সব পাঠদান শেষ করতে হচ্ছে।
স্বাভাবিক সময়ে একটি ক্লাসে প্রায় ৫০ মিনিট সময় দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতিটি ক্লাসে সময় মিলছে প্রায় ৩০ মিনিট। এরপর সকাল ১০টা থেকে একই শ্রেণিকক্ষে শুরু হয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস।
এতে দ্রুত পাঠদান শেষ করতে গিয়ে শিক্ষকরা যেমন চাপের মধ্যে পড়েছেন, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও স্বাভাবিক পাঠগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
অভিভাবকেরা জানান, ভোরে ক্লাস শুরু হওয়ায় অনেক শিশুকেই ঘুম থেকে উঠে দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ নাশতা না করেই ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
এ ছাড়া জায়গা ও সময়ের সংকটের কারণে নিয়মিত সমাবেশ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও খেলাধুলার মতো কার্যক্রমও ঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত নিজস্ব বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করে স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হোক।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০০০ সালে নির্মিত কামালের বার্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। সময়ের সঙ্গে ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
প্রায় দুই মাস আগে ক্লাস চলাকালে ভবনের ছাদে বিকট শব্দ হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই ভবনে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রেখে পাশের বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে।”
বকশীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শনের পর সেখানে পাঠদান বন্ধ করে বিকল্প হিসেবে কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য অস্থায়ী ঘর নির্মাণে ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অস্থায়ী ঘরটি নির্মাণ হলে নিজস্ব বিদ্যালয়ে পূর্ণ সময়ের পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। আপাতত বিকল্প বিদ্যালয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অস্থায়ী ঘর নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অভিভাবকদের দাবি, অস্থায়ী ঘর নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। এতে শিশুদের ভোরে অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করার ভোগান্তি কমবে এবং তারা স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।