কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় সরকার নির্ধারিত ১০ টাকা মূল্যের রাজস্ব স্ট্যাম্প নকল করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনারি ও কম্পিউটারের দোকানে এসব স্ট্যাম্প অবাধে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেখতে আসল স্ট্যাম্পের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নকল শনাক্ত করা কঠিন। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে এসব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে দলিল, চুক্তিপত্র বা দাপ্তরিক কাজে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র আসল রাজস্ব স্ট্যাম্পের আদলে নকল স্ট্যাম্প তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করছে। নিরাপত্তা কালি, জলছাপ ও কাগজের মানে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও তা খালি চোখে সহজে বোঝা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু কম্পিউটার ও স্টেশনারি দোকানে কম দামে এসব স্ট্যাম্প সরবরাহ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কম্পিউটার দোকানি বলেন, স্থানীয় দুলাল মিয়ার ফটোকপির দোকান থেকে তাঁরা এসব স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেন। তাঁর দাবি, পোস্ট অফিস থেকে ১০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প কিনলে লাভ কম হওয়ায় দুলাল মিয়ার কাছ থেকে ৭ টাকা দরে কিনে পরে খুচরা বিক্রি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল মিয়া বলেন, কেউ তাঁকে এসব স্ট্যাম্প সরবরাহ করে না। পরিচিত রিকশাচালকদের মাধ্যমে অথবা নিজে পোস্ট অফিস থেকে স্ট্যাম্প কেনেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে স্ট্যাম্প কেনার সময় কোনো মেমো দেওয়া হয় না বলেও জানান তিনি। এগুলো আসল না নকল, তা তিনি জানেন না বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাল উদ্দিন বলেন, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থেকে রাজস্ব স্ট্যাম্প কিনতে হয়। এসব স্ট্যাম্প নকল হতে পারে, তা তাঁদের জানা ছিল না। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে পোস্ট অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভৈরব পোস্ট মাস্টার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে তাঁদের কার্যালয় থেকে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রি হয়। হেড অফিস থেকে স্ট্যাম্প এনে স্লিপ বা মেমোর মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ফলে পোস্ট অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প বিক্রির সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে পোস্ট অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প দেওয়া হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গণমাধ্যমের কাছে দেখানো স্ট্যাম্পটি দেখে তাঁর কাছে আসল বলে মনে হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। শিগগিরই বাজার মনিটরিং করা হবে এবং জালিয়াতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নকল রাজস্ব স্ট্যাম্পের উৎস শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব হবে।