হোসেনপুরে কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্রতায় অপরূপ সাজে সেজেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলের

2026-09-25T17:20:24+00:00
2026-09-25T17:20:24+00:00
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
হোসেনপুরে কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২০ পিএম 
হোসেনপুরে কাশফুলের শুভ্রতায় মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্রতায় অপরূপ সাজে সেজেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুটে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য টানছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। প্রতিদিনই পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের নিয়ে সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারি সারি কাশফুল বাতাসে দুলছে। দক্ষিণা বাতাসে সাদা শীষের দোল যেন তৈরি করেছে ঢেউয়ের মতো দৃশ্য। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর সবুজের মাঝে কাশফুলের শুভ্রতা পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর।

কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই সেখানে মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে ছুটে আসছেন। কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, সেলফি তোলা আর প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতেই ব্যস্ত দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশবনের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে বিকেলের দিকে এই ভিড় তুলনামূলক বেশি হয়। সূর্যের নরম আলো কাশফুলের ওপর পড়লে পুরো প্রান্তর যেন নতুন রূপ পায়।

সাহেবের চর গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, ‘মানসিক শান্তি ও কাশফুলের শুভ্রতা উপভোগ করতে এখানে ছুটে এসেছি। প্রতিবছরই এই এলাকায় কাশফুল ফুটে। শরতের সময় এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর হয়ে ওঠে।’

কাশফুল দেখতে আসা জলিল মিয়া ও মোছা. মনি আক্তার বলেন, ‘কাশফুল ছাড়া শরৎ যেন পরিপূর্ণ হয় না। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রতিবছরই কাশফুল ফুটে। দূর থেকে কাশবনের সৌন্দর্য দেখতে খুবই ভালো লাগে।’

তবে দর্শনার্থীদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে তাঁদের। তাঁরা বলেন, অনেকে কাশফুল ছিঁড়ে নষ্ট করেন, আবার কেউ কেউ কাশবনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করেন। কাশবনের সৌন্দর্য ধরে রাখতে দর্শনার্থীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

শুধু সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনেও কাশের রয়েছে ব্যবহারিক গুরুত্ব। স্থানীয়ভাবে ঘরের চালা, পানের বরজ ও সবজি বাগানের বেড়া তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে কাশ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি মাটিক্ষয় রোধেও কাশগাছ ভূমিকা রাখে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, কাশবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে ফুল না ছেঁড়া, গাছের ক্ষতি না করা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে দর্শনার্থীদের সচেতন করতে হবে। এতে প্রতিবছর শরৎকালে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ অক্ষুণ্ন থাকবে।

প্রকৃতির নিয়মে শরৎ আসে, সঙ্গে নিয়ে আসে কাশফুলের শুভ্রতা। হোসেনপুরের ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী চরাঞ্চলও এখন সেই শরতেরই এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই তাই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: