‘অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে আমি দেখব’—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে ‘অপপ্রচার’ দাবি করে মানববন্ধন করেছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে খারদিয়া কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
তাঁদের দাবি, সম্প্রতি চেয়ারম্যানের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ভিডিওর একটি অংশ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য বা তথ্য প্রচারের আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান হুমায়ুন খান, স্থানীয় সমাজসেবক ইলিয়াস কাজী, ইউনুস মাতুব্বর, তারা মিয়া, মুক্তার ফকির, জালাল শিকদার, আজাদ ঠাকুর, নুরু মোল্লা ও তৃষ্ণা আক্তারসহ স্থানীয়রা।
চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা বলেন, ‘আমার এলাকার জনগণ জানেন, আমি কেমন মানুষ। তারা আমার সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন। সেই কারণেই আজ তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আমার বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।’
তিনি জানান, দীর্ঘ ২২ বছর বিদেশে থাকার পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন। এরপর ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রব মোল্লাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এর আগে সালথার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি সভায় চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লার বিরুদ্ধে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দেওয়ার এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা ওই বক্তব্য অস্বীকার করে দাবি করেন, ভিডিওটি সম্পাদনা (এডিট) করে প্রচার করা হয়েছে।