গাজার কিশোরীর জীবনের গল্প ছুঁয়ে গেল টরন্টোর জুরি, জিতল ‘থার্টিন ইন গাজা’

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শরণার্থীশিবিরে বেড়ে ওঠা ১৩ বছরের এক কিশোরীর জীবনসংগ্রামের গল্প এবার জায়গা করে নিল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে। ফিলিস্তিনি নির্মাতা

2026-09-25T15:44:53+00:00
2026-09-25T15:44:53+00:00
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিনোদন
গাজার কিশোরীর জীবনের গল্প ছুঁয়ে গেল টরন্টোর জুরি, জিতল ‘থার্টিন ইন গাজা’
বিনোদন ডেস্ক
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম 
‘থার্টিন ইন গাজা’র দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শরণার্থীশিবিরে বেড়ে ওঠা ১৩ বছরের এক কিশোরীর জীবনসংগ্রামের গল্প এবার জায়গা করে নিল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে। ফিলিস্তিনি নির্মাতা হোসাম আবু দানের প্রথম কাহিনিচিত্র ‘থার্টিন ইন গাজা’ জিতে নিয়েছে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) নেটপ্যাক পুরস্কার।

১১ দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিনে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম বা দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ থেকে সেরা ছবিকে নেটপ্যাক পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘থার্টিন ইন গাজা’র গল্প আবর্তিত হয়েছে গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবিরে বাবার সঙ্গে থাকা ১৩ বছরের রাঘাদকে ঘিরে। কৈশোরে পা দেওয়া এই কিশোরীর ব্যক্তিগত পরিবর্তন, নিরাপত্তাহীনতা এবং যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা—সবকিছুই উঠে এসেছে ৭৭ মিনিটের ছবিটিতে।

ছবিটির পুরো শুটিং হয়েছে গাজায়, স্থানীয় ফিলিস্তিনি শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে। টিআইএফএফের সেন্টারপিস বিভাগে ছবিটির বিশ্ব উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।

পুরস্কার দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নেটপ্যাক জুরি জানায়, গাজার চলমান পরিস্থিতিতে ছবিটি মানুষের দুর্ভোগকে শুধু ভুক্তভোগিতার প্রদর্শনী হিসেবে তুলে ধরেনি। বরং মানুষের জীবনের নানা জটিলতা ও বাস্তবতাকে শক্তিশালী দৃশ্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে। জুরি ছবিটিকে সাহসী ও জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পুরস্কার পাওয়ার পর নির্মাতা হোসাম আবু দান বলেন, গাজার মানুষের কণ্ঠ আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারা তাঁদের জন্য গভীর গর্বের। অসংখ্য বেদনাদায়ক গল্পের মধ্য থেকে একটি মানুষের গল্প বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।

দর্শকের ভোটে সেরা ‘লা বোলা নেগ্রা’

এবারের টিআইএফএফের মূল পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড জিতেছে স্পেনের নির্মাতা হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসির ‘লা বোলা নেগ্রা’। ১৯৭৮ সাল থেকে দর্শকের ভোটে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

তিনটি সময়পর্ব—১৯৩২, ১৯৩৭ ও ২০১৭ সালকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটিতে স্পেনের তিন পুরুষের জীবন, ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা ও যন্ত্রণার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবেও আলোচনায় আসে। সেখানে দুই নির্মাতা যৌথভাবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান। পরে ছবিটির স্বত্ব কিনে নেয় নেটফ্লিক্স।

পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ডে প্রথম রানারআপ হয়েছে পিটার ফ্যারেলির ‘আই প্লে রকি’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ শান হেডারের ‘বিয়িং হিউম্যান’।

পুরস্কার পেল ভারতের ‘আং’

টরন্টো উৎসবে ভারতের নির্মাতা থেজা রিওর ‘আং’ জিতেছে প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের একটি গ্রামের শেষ জীবিত প্রধানকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটির বেশির ভাগ সংলাপ কোনিয়াক ভাষায়।

পুরস্কার পাওয়ার পর থেজা রিও বলেন, নিজের জন্মভূমি ও জনগোষ্ঠীর গল্প এবং কণ্ঠস্বর তুলে ধরাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। টরন্টোয় এসে সেই ছবির স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।

এবার থেকে প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রথমবারের মতো অ-ইংরেজি ভাষার প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারজয়ী ছবি অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে অস্কারের অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

কানাডার সেরা ‘সানবার্ন’

সেরা কানাডীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে সারভিল পোবলেতের ‘সানবার্ন’। টরন্টোর ব্লিকার স্ট্রিট এলাকার একদল কিশোর-কিশোরীর বেড়ে ওঠার গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটিকে জুরি প্রাণবন্ত, মজার ও মানবিক চলচ্চিত্র হিসেবে প্রশংসা করেছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে সাইমন স্টোনের ‘এলসিনোর’। প্রামাণ্যচিত্রে দর্শকের সেরা হয়েছে ব্যারি অ্যাভরিচের ‘ডারলিন লাভ: আই নো হোয়্যার আই’ভ বিন’। আর মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে দর্শকের পছন্দ হয়েছে ম্যাথিউ র‍্যানকিনের ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, ব্রায়ান মালরনি’।

এবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের সংগঠন ফিপ্রেসির পুরস্কার পেয়েছে আইরিশ লেখক-নির্মাতা ডেভিড টারপিনের ‘অ্যানসেস্টরস’।

১১ দিনে ২৯৪ ছবি, উপস্থিতি ছিল বিপুল

এবারের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ৭২টি দেশের মোট ২৯৪টি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। ৯৮টি লালগালিচা আয়োজনে অংশ নিয়েছেন আট শতাধিক শিল্পী ও চলচ্চিত্রকর্মী। স্বীকৃত গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার এবং বিভিন্ন দেশ থেকে ২৭৯ জন পরিচালক উৎসবে অংশ নেন।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’-এ অংশ নেন প্রায় সাত হাজার প্রতিনিধি।

১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ১১ দিনের উৎসব শেষ হয় রোববার পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। শেষ দিনেও দর্শকদের জন্য পিপলস চয়েজজয়ী ছবিগুলোর বিশেষ বিনা মূল্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।


Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: