‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি’ ঠেকাতে মিছিল!

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

একটি নাটক। একটি চরিত্র। আর সেই চরিত্রকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে পড়েছিল মানুষ—বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসে এমন ঘটনা খুব বেশি নেই। ‘কোথাও

2026-09-24T19:52:06+00:00
2026-09-24T19:52:06+00:00
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিনোদন
‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি’ ঠেকাতে মিছিল!
বিনোদন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
একটি নাটক। একটি চরিত্র। আর সেই চরিত্রকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে পড়েছিল মানুষ—বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসে এমন ঘটনা খুব বেশি নেই। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের শেষ পর্বকে ঘিরে ঠিক এমনই এক অভাবনীয় আবেগের বিস্ফোরণ ঘটেছিল ৩৩ বছর আগে।

১৯৯৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রচারিত হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’-এর শেষ পর্ব। কিন্তু শেষ পর্ব প্রচারের আগেই দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল তীব্র উত্তেজনা—বাকের ভাই কি সত্যিই ফাঁসিতে ঝুলবেন?

উত্তরটা জানতেন নাটকের সঙ্গে যুক্তরা। কিন্তু দর্শকের কাছে তখন বাকের ভাই নিছক কোনো নাটকের চরিত্র ছিলেন না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন আপনজন।

নাটকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মহল্লার মাস্তান বাকের ভাইকে একটি হত্যাকাণ্ডের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। সাজানো সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর বাকেরকে বাঁচাতে মুনাসহ অন্যদের চেষ্টা, আর শেষ পর্যন্ত ফাঁসি—গল্পটি যেন দর্শকের আবেগকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

‘বাকের ভাইয়ের মুক্তি চাই’—রাস্তায় নেমেছিল মানুষ

শেষ পর্বের আগে থেকেই বাকেরের ফাঁসি ঠেকানোর দাবিতে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, কোথাও কোথাও বাকেরের মুক্তির দাবিতে মিছিলও হয়েছিল।

এক দর্শক স্মৃতিচারণা করে জানিয়েছেন, তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে তিনিও মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। শেষ পর্ব দেখে কেঁদেছিলেন, আর বহু বছর পরও নাটকটি দেখলে চোখে পানি চলে আসে তার।

আরেক দর্শকের স্মৃতিতে, শেষ পর্ব দেখার জন্য বাড়ির টেলিভিশন বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল। উঠান ভরে গিয়েছিল মানুষে। আর বাকেরের পরিণতি দেখে দর্শকদের কান্নায় তৈরি হয়েছিল এক অভূতপূর্ব পরিবেশ।

শেষ মুহূর্তেও ছিল ধোঁয়াশা

বাকেরের ফাঁসি হবে কি না—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা। সেই সময়ের গণমাধ্যমেও নাটকের শেষ পর্ব ঘিরে প্রকাশিত হয়েছিল একের পর এক প্রতিবেদন।

একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘আজ বাকেরের ফাঁসি’।

প্রতিবেদনটিতে অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছিল। বাকের চরিত্রে অভিনয় করা নূর জানিয়েছিলেন, ঘটনা আগে থেকেই জানা থাকায় তার নিজের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তবে দর্শকদের ফোনে তিনি তখন অনেকটাই হয়রান হয়ে পড়েছিলেন।

শেষ পর্ব প্রচারের আগের রাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল নানা গুঞ্জন—হয়তো শেষ মুহূর্তে বাকেরকে বাঁচিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি নাটকের সম্পাদনায় ব্যস্ত প্রযোজক বরকতউল্লাহর বক্তব্যও দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত চমক থাকলেও বদলায়নি বাকেরের পরিণতি।

ফাঁসি ঠেকেনি, কাঁদিয়েছিল পুরো দেশ

শেষ পর্যন্ত বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়। মিথ্যা হত্যামামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার গল্প। আর বাকেরের মৃত্যুর পর মুনার একাকিত্বের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নাটকটি।

বাকেরের চরিত্রে আসাদুজ্জামান নূরের অভিনয় দর্শকের মনে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছিল যে চরিত্রটি নাটকের সীমানা পেরিয়ে বাস্তবের মানুষের আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, আবদুল কাদের, লুৎফর রহমান জর্জ, মাহফুজ আহমেদ, আফসানা মিমি ও হুমায়ুন ফরীদি।

৩৩ বছর পরও ‘কোথাও কেউ নেই’-এর দৃশ্য ও সংলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও, শর্টস কিংবা নানা পোস্টে ফিরে আসে। নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও পরিচিত হচ্ছে বাকের ভাই, মুনা ও তাদের সেই গল্পের সঙ্গে।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর স্মৃতিটি রয়ে গেছে সেই সময়ের—একটি টেলিভিশন নাটকের চরিত্রকে বাঁচাতে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, আর প্রিয় চরিত্রের ফাঁসির দৃশ্য দেখে কেঁদেছিল পুরো ঘর।


Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: