সূর্য ডুবলেই কেন বন্ধ হয়ে যায় দরজা? দিনের আলোয় যেখানে সবকিছু স্বাভাবিক, সন্ধ্যা নামতেই সেখানে কেন জারি হয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা? লোকবিশ্বাস, অজানা ভয় আর রহস্যে ঘেরা এমনই এক জগতের গল্প নিয়ে হাজির হচ্ছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়া। ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’ সিনেমার টিজার-ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মনে উঁকি দিচ্ছে একের পর এক প্রশ্ন।
সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমাটির টিজার ও ট্রেলারে মিলেছে রহস্যে ঘেরা জঙ্গল, অজানা বিপদ এবং একের পর এক নাটকীয় মোড়ের আভাস। ফলে মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
যে নিয়ম ভাঙতেই শুরু বিপদ
‘দ্য ভান’-এর গল্পের কেন্দ্রে এমন একজন মানুষ, যিনি একটি সংরক্ষিত জঙ্গলে প্রবেশ করে প্রচলিত একটি নিয়ম ভেঙে ফেলেন। এরপরই বদলে যেতে থাকে সবকিছু। জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ ধীরে ধীরে রূপ নেয় অস্বাভাবিক এক জগতে।
এরপর একের পর এক সামনে আসে রহস্য, ভয় ও অনিশ্চয়তা। কী সেই নিয়ম? কেন সূর্যাস্তের পর জঙ্গলে প্রবেশ নিষিদ্ধ? আর নিয়ম ভাঙার পর কী ঘটে—এসব প্রশ্নের উত্তরই গল্পকে এগিয়ে নেয়।
বাস্তব লোককথা থেকে সিনেমার গল্প
সিনেমাটির গল্পের পেছনে রয়েছে ভারতের বিহারের পাটনার কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন বনদেবী মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত লোককথা। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দিরটির ইতিহাস, স্থানীয় বিশ্বাস এবং সেখানে প্রচলিত কিছু কঠোর নিয়ম তাদের গল্প ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা লোকবিশ্বাস। এর মধ্যে অন্যতম হলো—সূর্যাস্তের পর মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। দরজা বন্ধ হওয়ার পর পুরোহিতরাও মন্দির ছেড়ে চলে যান। রাতের বেলায় সেখানে থাকার অনুমতিও নেই।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সূর্যাস্তের পর মন্দির প্রাঙ্গণে বনদেবীর বিচরণ ঘটে। সময়ের সঙ্গে এই বিশ্বাস একটি কঠোর নিয়মে পরিণত হয়েছে।
লোকবিশ্বাস জানতে মন্দিরে নির্মাতা
পরিচালক অরুণাভ কুমার জানিয়েছেন, শুধু লোকমুখে প্রচলিত গল্পের ওপর নির্ভর করেননি তারা। তিনি নিজে মন্দিরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জানার চেষ্টা করেছেন মন্দিরের ইতিহাস, প্রচলিত বিশ্বাস ও লোককথার নানা দিক।
প্রায় দুই বছর আগে অরুণাভ কুমার গল্পটি পরিচালক দীপক কুমার মিশ্রকে শোনান। গল্পটি দুজনের কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয়। পরে তারা এটি প্রযোজক একতা কাপুরের কাছে উপস্থাপন করেন। তিনিও বড়পর্দায় গল্পটি আনার বিষয়ে আগ্রহ দেখান। এরপর বাস্তব লোকবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাতাদের কল্পনা যোগ হয়ে তৈরি হয় ‘দ্য ভান’-এর জগৎ।
জঙ্গলজুড়ে প্রযুক্তির ছোঁয়া
সিনেমাটির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে জঙ্গল। তাই শুধু বাস্তব লোকেশনে শুটিং করেই কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব ছিল না। এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে প্রযুক্তি ও অ্যানিমেশনের ব্যাপক প্রয়োগ।
দীপক কুমার মিশ্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অরুণাভের কাছ থেকে গল্পটি শোনার সময়ই তাঁর মনে সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্য ভেসে উঠতে শুরু করে। সেই দৃশ্যকল্প থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি করা হয় ছবিটির ভিজ্যুয়াল জগৎ।
নির্মাতাদের দাবি, দর্শক সিনেমা দেখার সময় হয়তো প্রতিটি দৃশ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার আলাদা করে বুঝতে পারবেন না। তবে পর্দায় যে রহস্যময় জগতের দেখা মিলবে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ।
সিদ্ধার্থ-তামান্নার নতুন জুটি
‘দ্য ভান’-এর অন্যতম আকর্ষণ সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়া। দুজনকেই দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। রহস্যে ঘেরা জঙ্গলের সঙ্গে তাদের চরিত্র কীভাবে যুক্ত হয়, সেটিই এখন দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়।
তবে সিনেমাটি শুধু ভয় বা আতঙ্কের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জঙ্গল ঘিরে মানুষের বিশ্বাস, প্রাচীন লোককথা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভয় ও শ্রদ্ধা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই ‘দ্য ভান’ দর্শকদের নিয়ে যেতে পারে এক রহস্যময় অন্ধকার জগতে।