ঢাকার ধোলাইপাড়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামী জিকিরুল ওরফে জুয়েল মৃধা পলাতক। এদিকে তাঁর গ্রাম পটুয়াখালীর দশমিনায় ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধনের পর তাঁর বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বিবি রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে ইয়ানুর বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে ইয়ানুরের হত্যায় জড়িত ব্যক্তির ফাঁসির দাবি জানানো হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা জুয়েল মৃধার বসতঘরে আগুন দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জুয়েল মৃধা দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আকীপুর গ্রামের ফোরকান মৃধার ছেলে। তাঁর স্ত্রী ইয়ানুর বেগম গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া এলাকার হানিফ হাওলাদারের মেয়ে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে ইয়ানুরের সঙ্গে জুয়েলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাসায় ইয়ানুরকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে কদমতলী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। তখন ঘটনাস্থলে ইয়ানুর ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ জানান, ইয়ানুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় জুয়েল মৃধার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ইয়ানুরের বাবা হানিফ হাওলাদার বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ের সঙ্গে জুয়েলের বনিবনা হচ্ছিল না। তাঁর অভিযোগ, জুয়েলই তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছেন। তবে জুয়েলের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা মানববন্ধন করেন।
তবে জুয়েলের বাড়িতে আগুন দেওয়ার সঙ্গে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন ইয়ানুরের বাবা। তিনি বলেন, মানববন্ধন শেষে তাঁরা চলে যান এবং তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
অন্যদিকে জুয়েলের এক আত্মীয়ের দাবি, ইয়ানুরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জুয়েলের পরিবারের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়। তাঁদের গরু-বাছুরও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জুয়েল অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হওয়া উচিত; কিন্তু তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বসতঘরে আগুন দেওয়া ঠিক হয়নি।
এদিকে দশমিনা থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, ইয়ানুর হত্যার ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানতে পেরেছে। মানববন্ধন ও ঘর পোড়ানোর খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘর পোড়ানোর ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী হত্যার মামলার আসামি জুয়েল মৃধাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।