রাবি শিক্ষার্থী দেখলেই চড়াও রেলকর্মীরা? বিরোধের নেপথ্যে কী

রাবি সংবাদদাতা

শিক্ষা

এক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক ঘটনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেলওয়ের টিটিই ও নিরাপত্তাকর্মীদের বিরোধ যেন ক্রমেই

2026-09-21T17:33:52+00:00
2026-09-21T17:33:52+00:00
  মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষা
রাবি শিক্ষার্থী দেখলেই চড়াও রেলকর্মীরা? বিরোধের নেপথ্যে কী
রাবি সংবাদদাতা
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
এক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক ঘটনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেলওয়ের টিটিই ও নিরাপত্তাকর্মীদের বিরোধ যেন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। গত জুলাইয়ে ট্রেনের ভেতর এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের পর সেপ্টেম্বরে আরও দুই দফায় শিক্ষার্থী হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে রেলকর্মীদের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের কথা-কাটাকাটির পর এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাতে ‘মার্চ টু রাজশাহী স্টেশন’ কর্মসূচি নিয়ে স্টেশনে যান শিক্ষার্থীরা। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে একের পর এক একই ধরনের অভিযোগ কেন উঠছে, রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেলকর্মীদের বিরোধের নেপথ্যে কী এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

গত ২১ জুলাই পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ফোরকান উদ্দীন নামে রাবির আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে কয়েকজন টিটিই মারধর ও হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ফোরকান।

ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা চার দফা দাবি জানান। পরে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে প্রায় আট ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন তারা। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত এক টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়।

এর প্রায় দুই মাস পর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে রাবির এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তীকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন টিটিইর বিরুদ্ধে। ট্রেনের চেইন টানাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

মৃন্ময় পরে বলেন, চেইন টানা তার ভুল ছিল এবং এ জন্য তারা ক্ষমাও চেয়েছিলেন। রেলের আইনে যে শাস্তি রয়েছে, সেটি মেনে নিতেও তারা প্রস্তুত ছিলেন। তবে এ কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমান বা হুমকি দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, মারধরের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা আপত্তিকর মন্তব্যও করেন। আহত আইয়ুব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে শিক্ষার্থী আসিফ হাসান অভিযোগ করেন, তাকে ধরে স্টেশনের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে মাটিতে ফেলে বুট পরা অবস্থায় লাথি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। তার ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের ঘটনায় রাবি শিক্ষার্থীর হেনস্তার পর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি এবং অভিযুক্ত টিটিইকে বরখাস্তের বিষয়টি রেলকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী অপরাধ করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু শিক্ষার্থীকে মারধর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়টি নিয়েও রেলকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে।

তবে যাত্রাবিরতি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই রেলকর্মীরা রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন—এ অভিযোগ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক এবং একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। সর্বশেষ ঘটনার পর তিনি রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলেও জানান।

তার ভাষ্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। রেলওয়ের কিছু ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন ধরে রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অতীতের ঘটনায় সুস্পষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এমন ঘটনা পুনরায় ঘটছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা আব্দুল আলীম মিঠু বলেন, সব টিটিই এক নন। সর্বশেষ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত বলে তিনিও মনে করেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর করাও ঠিক হয়নি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের আঘাত করা যেমন কাম্য নয়, তেমনি ভাঙচুরের ঘটনাও সমর্থনযোগ্য নয়। অভিযুক্ত টিটিইদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এখন সেই তদন্তে কী উঠে আসে এবং ধারাবাহিক এসব ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।


Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: