এশিয়ান গেমসে বড় দুই পরাজয়ের পর শেষটা অন্তত হার দিয়ে হয়নি বাংলাদেশের। মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সোমবার জাপানের নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষদিকে মিয়ানমার একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বাংলাদেশের দৃঢ় রক্ষণে তা কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
গ্রুপ ‘এফ’-এ বাংলাদেশের শুরুটা ছিল কঠিন। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০–০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও ৬–০ গোলে পরাজিত হয় দলটি। ফলে প্রথম দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে কোনো গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ।
তাই মিয়ানমারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। জয় পেলে গ্রুপের সমীকরণে পরের ধাপে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত জয় না এলেও অন্তত গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে মিয়ানমার। দ্বিতীয় মিনিটেই পরপর দুটি শট নেয় তারা। প্রথমটি বাংলাদেশের গোলরক্ষক সামলে নেন, আর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্রুত আক্রমণে উঠে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে মিয়ানমার।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে তারা। ১৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরি করেন আফঈদা খন্দকার। তবে তার সেটপিস কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়নি। ২৭ মিনিটে একটি কর্নার পেলেও সেখান থেকে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার নেওয়া শটও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে সময় যত গড়াতে থাকে, মিয়ানমারের আক্রমণের ধারও তত বাড়ে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে তখন বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়।
৭৭ মিনিটে মিয়ানমারের একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই আরও দুটি আক্রমণ চালায় মিয়ানমার। তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ব্লক ও প্রতিরোধে সেগুলোও গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। কর্নার থেকেও একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে বাংলাদেশের বক্সে চাপ বাড়ায় তারা।
মিয়ানমারের সেই চাপ সামলে নিজেদের রক্ষণভাগ এবার বেশ গোছানো রাখে বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচের মতো বড় কোনো ফাঁক তৈরি হতে দেয়নি দলটি। সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
শেষ পাঁচ মিনিটে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশও। ৮৫ মিনিটে কর্নার আদায় করে নেয় দলটি। এক মিনিট পর ঋতুপর্ণা চাকমার নেওয়া শট মিয়ানমারের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। সেই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের একটি অফসাইডও হয়।
শেষ মুহূর্তে আবারও আক্রমণে ওঠে মিয়ানমার। বাংলাদেশের বক্সের আশপাশে কয়েক দফা চাপ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোল আদায় করতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের রক্ষণভাগও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে ০–০। ফলে তিন ম্যাচে কোনো জয় না পেলেও মিয়ানমারের বিপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর শেষ ম্যাচে গোলবার অক্ষত রেখে মাঠ ছাড়াটাই হয়ে থাকল এবারের আসরে বাংলাদেশের শেষ স্বস্তি।